লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের বদলে ভুয়া ব্যক্তি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন: নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার

নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের বদলে ভুয়া ব্যক্তি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন: নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার

তীব্র চিকিৎসক সংকট, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১৮০ রোগী, বারান্দায় চিকিৎসা

তীব্র চিকিৎসক সংকট, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১৮০ রোগী, বারান্দায় চিকিৎসা

চাঁদপুরে বিনামূল্যে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসা-অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্বোধন

চাঁদপুরে বিনামূল্যে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসা-অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্বোধন

নরসিংদীতে ডেঙ্গুর দাপট, হাসপাতালে ঠাঁই নেই রোগীর

নরসিংদীতে ডেঙ্গুর দাপট, হাসপাতালে ঠাঁই নেই রোগীর

মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন, ভিডিও ভাইরাল

মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন, ভিডিও ভাইরাল

সংবাদ প্রকাশের পর তিন বোনের পাশে উপজেলা প্রশাসন

সংবাদ প্রকাশের পর তিন বোনের পাশে উপজেলা প্রশাসন

কালিয়াকৈরে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কালিয়াকৈরে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কেরানীগঞ্জ এর রসুলপুরে ফ্রি রক্তের গ্রুপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা কর্মসূচি

কেরানীগঞ্জ এর রসুলপুরে ফ্রি রক্তের গ্রুপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা কর্মসূচি

বন্দরে মা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।

বন্দরে মা হাসপাতালের বিরুদ্ধে  ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।

মো.মনিরুল ইসলাম.

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত 'মা হাসপাতাল  সিজারের সময় সিনথিয়া রহমান (২৩) নামের এক প্রসূতির ১০শে আগস্ট ওই প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

 বর্তমানে ওই প্রসুতি  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রসূতির পরিবার বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বাদী হয়ে বন্দর থানায় অভিযোগটি করেন। এতে 'মা হাসপাতাল'-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

সকাল ১০টায় ডা. সাইমা আক্তার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন এবং ১১টা ১০ মিনিটে সিজারের মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে কোনো পোস্ট-অপারেটিভ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে না রেখে সরাসরি সাধারণ বেডে পাঠোনো হয়।

এর পর থেকেই সিনথিয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পেট ফুলতে থাকে। স্বজনরা বারবার চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা এটিকে স্বাভাবিক 'গ্যাসের সমস্যা' বলে অবহেলা করেন এবং সাধারণ ব্যথার ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যান। টানা চার দিন পর, ১৩ আগস্ট সকালে 'বাথরুম হলে ফোলা কমে যাবে' আশ্বাস দিয়ে রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ওই দিনই রাত ১১টার দিকে পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে সিনথিয়াকে পুনরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আবারও একই দাবি করে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তার স্বামী মো. মাসুম (৩১) তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। স্বজনদের দাবি, ঢামেক চিকিৎসকরা পরবর্তীতে জানান যে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলা হয়েছিল। এর ফলে খাবারের অংশ পেটে জমে বিষক্রিয়া (ইনফেকশন) তৈরি হয় এবং পেট ফুলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে প্রসূতির আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, এই ভুল চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক রুহুল আমিনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রাইম টেলিভিশনকে  জানান মা হসপিটাল এর বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বন্দরে মা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



মো.মনিরুল ইসলাম.


নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত 'মা হাসপাতাল  সিজারের সময় সিনথিয়া রহমান (২৩) নামের এক প্রসূতির ১০শে আগস্ট ওই প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 


 বর্তমানে ওই প্রসুতি  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রসূতির পরিবার বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বাদী হয়ে বন্দর থানায় অভিযোগটি করেন। এতে 'মা হাসপাতাল'-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।



ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 


সকাল ১০টায় ডা. সাইমা আক্তার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন এবং ১১টা ১০ মিনিটে সিজারের মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে কোনো পোস্ট-অপারেটিভ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে না রেখে সরাসরি সাধারণ বেডে পাঠোনো হয়।


এর পর থেকেই সিনথিয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পেট ফুলতে থাকে। স্বজনরা বারবার চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা এটিকে স্বাভাবিক 'গ্যাসের সমস্যা' বলে অবহেলা করেন এবং সাধারণ ব্যথার ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যান। টানা চার দিন পর, ১৩ আগস্ট সকালে 'বাথরুম হলে ফোলা কমে যাবে' আশ্বাস দিয়ে রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।


ওই দিনই রাত ১১টার দিকে পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে সিনথিয়াকে পুনরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আবারও একই দাবি করে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তার স্বামী মো. মাসুম (৩১) তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। স্বজনদের দাবি, ঢামেক চিকিৎসকরা পরবর্তীতে জানান যে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলা হয়েছিল। এর ফলে খাবারের অংশ পেটে জমে বিষক্রিয়া (ইনফেকশন) তৈরি হয় এবং পেট ফুলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে প্রসূতির আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, এই ভুল চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়।


এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক রুহুল আমিনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। 


এসব অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রাইম টেলিভিশনকে  জানান মা হসপিটাল এর বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি