আরিফ হোসেন , মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ১৮০ জন রোগী। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে চরম দুর্ভোগ সহ্য করে অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে ও খোলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপদাহ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমী রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন আউটডোর (বহির্বিভাগ) ও ইনডোরে (অন্তর্বিভাগ) চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহবুব উল আলম জানান, হাসপাতালে সাধারণ রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীও ভর্তি রয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৬ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি অক্টোবর মাসে বর্তমানে একজন ডেঙ্গু পজিটিভ এবং একজন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন; তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীটি অনেকটাই সুস্থতার পথে।
রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সর্বসাধারণকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
• ডায়রিয়া প্রতিরোধে: পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা।
• খাবারের সতর্কতা: খাবার সবসময় ঢেকে রাখা এবং খাবার খাওয়া ও তৈরির আগে-পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
• ডেঙ্গু প্রতিরোধে: বাড়ির আঙিনা ও ফেলে রাখা পাত্র পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা।
•
৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা ও জনবল সংকট
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ১৪টি ইউনিয়ন ও ৪১৩.৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মান্দা উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৮ জন (যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ জন)। প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। জনসংখ্যার তুলনায় বেড ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল।
সীমাবদ্ধ সম্পদের মাঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শয্যাসংকটের পাশাপাশি তীব্র জনবল ঘাটতি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনবলের করুণ চিত্র তুলে ধরে জানান:
• ডাক্তার ও কনসালটেন্ট: মঞ্জুরিকৃত ৪৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন (২৬টি পদ শূন্য)।
• স্বাস্থ্য সহকারী: প্রয়োজনীয় ৬০ জনের জায়গায় আছেন মাত্র ২৮ জন (৩২টি পদ শূন্য)।
• তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী: ১১৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯১ জন (২৬টি পদ শূন্য)।
এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে সুবিশাল উপজেলাটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি
মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মান্দা উপজেলার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং অবিলম্বে শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আরিফ হোসেন , মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ১৮০ জন রোগী। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে চরম দুর্ভোগ সহ্য করে অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে ও খোলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপদাহ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমী রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন আউটডোর (বহির্বিভাগ) ও ইনডোরে (অন্তর্বিভাগ) চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহবুব উল আলম জানান, হাসপাতালে সাধারণ রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীও ভর্তি রয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৬ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চলতি অক্টোবর মাসে বর্তমানে একজন ডেঙ্গু পজিটিভ এবং একজন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন; তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীটি অনেকটাই সুস্থতার পথে।
রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সর্বসাধারণকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
• ডায়রিয়া প্রতিরোধে: পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা।
• খাবারের সতর্কতা: খাবার সবসময় ঢেকে রাখা এবং খাবার খাওয়া ও তৈরির আগে-পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
• ডেঙ্গু প্রতিরোধে: বাড়ির আঙিনা ও ফেলে রাখা পাত্র পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা।
•
৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা ও জনবল সংকট
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ১৪টি ইউনিয়ন ও ৪১৩.৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মান্দা উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৮ জন (যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ জন)। প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। জনসংখ্যার তুলনায় বেড ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল।
সীমাবদ্ধ সম্পদের মাঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শয্যাসংকটের পাশাপাশি তীব্র জনবল ঘাটতি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনবলের করুণ চিত্র তুলে ধরে জানান:
• ডাক্তার ও কনসালটেন্ট: মঞ্জুরিকৃত ৪৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন (২৬টি পদ শূন্য)।
• স্বাস্থ্য সহকারী: প্রয়োজনীয় ৬০ জনের জায়গায় আছেন মাত্র ২৮ জন (৩২টি পদ শূন্য)।
• তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী: ১১৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯১ জন (২৬টি পদ শূন্য)।
এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে সুবিশাল উপজেলাটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি
মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মান্দা উপজেলার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং অবিলম্বে শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন