লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো’—টাঙ্গাইলে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর

জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো’—টাঙ্গাইলে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর

​আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল:

জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে সব সময় ‘চৌকিদার ও ভ্যানগার্ড’-এর ভূমিকা পালন করতে হয় মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। দেশের যেখানেই অসঙ্গতি দেখা যাবে, সেখানেই জামায়াত কথা বলবে।"

​১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আমরা সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি। সংসদে বারবার কথা বলেও সমাধান না পেয়ে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।"

​সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন আইনের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, "বর্তমান সরকার কুরআনের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে আইন পাস করেছে, যা সুস্পষ্ট কুরআন-বিরোধী। ক্ষমতায় আসার আগে তারা অনির্বাচিত কাউকে ক্ষমতায় না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তার উল্টোটা করছে।"

​চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করেনি।" একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, "‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন কথা বলে বিরোধী দলকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।"

​দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, "১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতো। তখন বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল না; ক্ষমতায় ছিল শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।" সেই দুর্ভিক্ষ ও চরম দুর্গতি ঠেকাতে তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক গুম-খুন ও দমন-পীড়নের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

​২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদকালে পল্টনে জামায়াতের নির্ধারিত সমাবেশে লগি-বৈঠা ও অস্ত্র নিয়ে নৃশংস হামলা চালানো হয়। নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাস করা হয়েছিল।"

​শিল্প ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সতর্ক করে বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজন হলে অন্য খাত থেকে বাজেট কাটছাঁট করে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।"

​পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি। দুর্নীতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক মন্তব্য উদ্ধৃত করে শফিকুর রহমান বলেন, "মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব নিজেও বলেছেন—চার-পাঁচ মাসে পরিবর্তন তো হয়ইনি, বরং দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকারের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হবে না।"

​লংমার্চসহ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

​টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা নায়েবে আমির আধ্যাপক খন্দকার  আব্দুর রাজ্জাক , ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড.  মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ,  জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির , অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি  শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম , এনসিপির জেলা সভাপতি এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, বায়তুল মাল সেক্রেটারি আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার,  জেলার কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, ড. আতাউর রহমান,  ওবায়দুর রহমান  কোরাইশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী,  সদর আমির ইকবাল হোসাইন বাদল, জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম খান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো’—টাঙ্গাইলে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


​আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল:


জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে সব সময় ‘চৌকিদার ও ভ্যানগার্ড’-এর ভূমিকা পালন করতে হয় মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। দেশের যেখানেই অসঙ্গতি দেখা যাবে, সেখানেই জামায়াত কথা বলবে।"

​১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আমরা সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি। সংসদে বারবার কথা বলেও সমাধান না পেয়ে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।"

​সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন আইনের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, "বর্তমান সরকার কুরআনের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে আইন পাস করেছে, যা সুস্পষ্ট কুরআন-বিরোধী। ক্ষমতায় আসার আগে তারা অনির্বাচিত কাউকে ক্ষমতায় না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তার উল্টোটা করছে।"

​চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করেনি।" একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, "‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন কথা বলে বিরোধী দলকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।"

​দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, "১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতো। তখন বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল না; ক্ষমতায় ছিল শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।" সেই দুর্ভিক্ষ ও চরম দুর্গতি ঠেকাতে তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক গুম-খুন ও দমন-পীড়নের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

​২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদকালে পল্টনে জামায়াতের নির্ধারিত সমাবেশে লগি-বৈঠা ও অস্ত্র নিয়ে নৃশংস হামলা চালানো হয়। নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাস করা হয়েছিল।"

​শিল্প ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সতর্ক করে বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজন হলে অন্য খাত থেকে বাজেট কাটছাঁট করে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।"

​পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি। দুর্নীতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক মন্তব্য উদ্ধৃত করে শফিকুর রহমান বলেন, "মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব নিজেও বলেছেন—চার-পাঁচ মাসে পরিবর্তন তো হয়ইনি, বরং দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকারের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হবে না।"

​লংমার্চসহ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

​টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা নায়েবে আমির আধ্যাপক খন্দকার  আব্দুর রাজ্জাক , ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড.  মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ,  জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির , অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি  শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম , এনসিপির জেলা সভাপতি এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, বায়তুল মাল সেক্রেটারি আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার,  জেলার কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, ড. আতাউর রহমান,  ওবায়দুর রহমান  কোরাইশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী,  সদর আমির ইকবাল হোসাইন বাদল, জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম খান প্রমুখ।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি