নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় এক যুগ ধরে বিদ্যুৎ নেই। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই সীমিত জনবল নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎবিহীন কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দিনের আলো কমে এলে চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) নুরুন্নাহার ২০১৫ সালে সেখানে যোগ দেন। তাঁর দাবি, যোগদানের সময় থেকেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।
নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার এখানে পোস্টিং হয় ২০১৫ সালে। তখন থেকেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ নেই। এরও আগে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আজও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবনটিও প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তীব্র গরমে আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। প্রতিদিন এভাবেই দায়িত্ব পালন করছি। রোগীরা আমাকে প্রশ্ন করেন কেন বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দিলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, ‘এখানে গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ মানুষ নিয়ে এসে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
আরেকজন বৃদ্ধা বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয় অনেক বছর আগের কোনো হাসপাতালে এসেছি। এতদিনেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, ‘কী কারণে এত বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই, তা আমরা জানি না। তবে বিদ্যুৎ ছাড়াই এভাবেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে আমাদের। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী দু’পক্ষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা জানিয়েছেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় এক যুগ ধরে বিদ্যুৎ নেই। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই সীমিত জনবল নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎবিহীন কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দিনের আলো কমে এলে চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) নুরুন্নাহার ২০১৫ সালে সেখানে যোগ দেন। তাঁর দাবি, যোগদানের সময় থেকেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না।
নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার এখানে পোস্টিং হয় ২০১৫ সালে। তখন থেকেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ নেই। এরও আগে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আজও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবনটিও প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তীব্র গরমে আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। প্রতিদিন এভাবেই দায়িত্ব পালন করছি। রোগীরা আমাকে প্রশ্ন করেন কেন বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দিলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, ‘এখানে গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ মানুষ নিয়ে এসে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
আরেকজন বৃদ্ধা বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয় অনেক বছর আগের কোনো হাসপাতালে এসেছি। এতদিনেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, ‘কী কারণে এত বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই, তা আমরা জানি না। তবে বিদ্যুৎ ছাড়াই এভাবেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে আমাদের। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী দু’পক্ষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা জানিয়েছেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

আপনার মতামত লিখুন