(রনি বড়ুয়া,চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস)
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, আর সেই স্বপ্ন পূরণ করে এখন আকাশপথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন ফাহিম চৌধুরী। স্টার এয়ারে এমব্রেয়ার ১৭০/১৯০ উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের সমর্থন, মায়ের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অধ্যবসায়।
স্বপ্ন দেখতে অনেকেই ভালোবাসেন, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, ধৈর্য ও নিরলস পরিশ্রম। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ফাহিম চৌধুরী তেমনই একজন। শৈশব থেকে গড়ে ওঠা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি এখন পেশাদার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফাহিম চৌধুরী। রাজধানীতেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। পড়াশোনা করেছেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। শিক্ষাজীবনের সেই সময় থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। একসময় আকাশে উড়োজাহাজ ওড়ানোর স্বপ্ন তাঁর কাছে কেবল কল্পনা ছিল না; বরং সেটিকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় তৈরি হয়।
নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফাহিম। সেখানে পাইলট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি। পরিবারের সমর্থন এবং বিশেষ করে মায়ের অনুপ্রেরণা তাঁকে এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
বিদেশের মাটিতে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং পেশাদার পাইলট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন—সব মিলিয়ে তাঁর এই যাত্রা ছিল অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা। তবে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি ফাহিম। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে একের পর এক প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জনের দিকে এগিয়ে গেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এপিক ফ্লাইট একাডেমি (Epic Flight Academy) থেকে পাইলট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফাহিম চৌধুরী। সেখানে তিনি ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং, প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স (PPL), ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং (IR) এবং কমার্শিয়াল সিঙ্গেল-ইঞ্জিন ল্যান্ড (CSEL) সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জন করেন।
এসব প্রশিক্ষণ পেশাদার বিমানচালক হিসেবে তাঁর দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উড়োজাহাজ পরিচালনার কৌশল, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উড্ডয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিমান চালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের কাঙ্ক্ষিত পেশার জন্য প্রস্তুত হন তিনি।
এপিক ফ্লাইট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পর বর্তমানে ফাহিম চৌধুরী বাংলাদেশের স্টার এয়ারে (Star Air) এমব্রেয়ার ১৭০/১৯০ (Embraer 170/190) সিরিজের উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন ফার্স্ট অফিসার বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনায় ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করেন। এ পেশায় দক্ষতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাহিমের বর্তমান অবস্থান তাঁর দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পেশাগত অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ।
বাংলাদেশ থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করে পেশাদার বিমানচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই পথচলা তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
ফাহিমের এই অর্জনের পেছনে পরিবারের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়ের অনুপ্রেরণা তাঁকে স্বপ্নের পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করেছে। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রতিকূলতা মোকাবিলা—প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারের সমর্থন একজন তরুণের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফাহিমের গল্পেও সেই অনুপ্রেরণার প্রতিফলন দেখা যায়। নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তিনি স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়েছেন।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
(রনি বড়ুয়া,চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস)
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, আর সেই স্বপ্ন পূরণ করে এখন আকাশপথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন ফাহিম চৌধুরী। স্টার এয়ারে এমব্রেয়ার ১৭০/১৯০ উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের সমর্থন, মায়ের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অধ্যবসায়।
স্বপ্ন দেখতে অনেকেই ভালোবাসেন, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, ধৈর্য ও নিরলস পরিশ্রম। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ফাহিম চৌধুরী তেমনই একজন। শৈশব থেকে গড়ে ওঠা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি এখন পেশাদার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফাহিম চৌধুরী। রাজধানীতেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। পড়াশোনা করেছেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। শিক্ষাজীবনের সেই সময় থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। একসময় আকাশে উড়োজাহাজ ওড়ানোর স্বপ্ন তাঁর কাছে কেবল কল্পনা ছিল না; বরং সেটিকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় তৈরি হয়।
নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফাহিম। সেখানে পাইলট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি। পরিবারের সমর্থন এবং বিশেষ করে মায়ের অনুপ্রেরণা তাঁকে এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
বিদেশের মাটিতে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং পেশাদার পাইলট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন—সব মিলিয়ে তাঁর এই যাত্রা ছিল অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা। তবে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি ফাহিম। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে একের পর এক প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জনের দিকে এগিয়ে গেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এপিক ফ্লাইট একাডেমি (Epic Flight Academy) থেকে পাইলট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ফাহিম চৌধুরী। সেখানে তিনি ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং, প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স (PPL), ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং (IR) এবং কমার্শিয়াল সিঙ্গেল-ইঞ্জিন ল্যান্ড (CSEL) সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জন করেন।
এসব প্রশিক্ষণ পেশাদার বিমানচালক হিসেবে তাঁর দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উড়োজাহাজ পরিচালনার কৌশল, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উড্ডয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিমান চালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের কাঙ্ক্ষিত পেশার জন্য প্রস্তুত হন তিনি।
এপিক ফ্লাইট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পর বর্তমানে ফাহিম চৌধুরী বাংলাদেশের স্টার এয়ারে (Star Air) এমব্রেয়ার ১৭০/১৯০ (Embraer 170/190) সিরিজের উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন ফার্স্ট অফিসার বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনায় ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করেন। এ পেশায় দক্ষতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাহিমের বর্তমান অবস্থান তাঁর দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পেশাগত অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ।
বাংলাদেশ থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করে পেশাদার বিমানচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই পথচলা তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
ফাহিমের এই অর্জনের পেছনে পরিবারের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়ের অনুপ্রেরণা তাঁকে স্বপ্নের পথে অবিচল থাকতে সাহায্য করেছে। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রতিকূলতা মোকাবিলা—প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারের সমর্থন একজন তরুণের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফাহিমের গল্পেও সেই অনুপ্রেরণার প্রতিফলন দেখা যায়। নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তিনি স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন