বিপ্লব মল্লিক প্রতিনিধি, মোংলা(বাগেরহাট)
নাকফুল ও একই থান কাপড়ের প্যান্ট—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ভিত্তিতে প্রায় ৬০ দিন পর উদ্ঘাটিত হয়েছে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য। নিখোঁজের ৬০ দিন পর নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম আসমা বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। তাঁদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা বেগম। ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। তবে শুরুতে নিহতের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত মরদেহের ছবি দেখে মোংলা থানা পুলিশ নিখোঁজ আসমা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের রং ও নকশার সঙ্গে আসমার বাড়িতে থাকা আরেকটি প্যান্টের মিল রয়েছে। শুধু রং ও নকশায় নয়, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি হওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পাশাপাশি মরদেহের নাকে থাকা নাকফুলও পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।
পোশাক ও অলংকারের সূত্র ধরে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই জেলায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া গ্রামের মো. মীর আলী (৪৮)। মীর আলী বর্তমানে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাড়াবাড়ি পাড়ায় আনোয়ার মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইকরামুল শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বক্তব্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের ধরন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে নিহত আসমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে নাকফুল ও একই থান কাপড়ের প্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মরদেহের পরিহিত পোশাক ও অলংকারের মিল পাওয়ার পর তদন্ত নতুন দিক পায়। পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।
নিহত আসমা বেগম মোংলা উপজেলার মালগাজী গ্রামের আঃ জবেদ আলী ও করিমন বিবির মেয়ে। প্রায় দুই মাস ধরে পরিচয়হীন থাকা মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে পোশাক, নাকফুল, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মরদেহের পোশাক ও নাকফুলের মিল পাওয়ার পর তদন্তে অগ্রগতি আসে। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বাগেরহাট জেলা আদালতে পাঠিয়েছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিপ্লব মল্লিক প্রতিনিধি, মোংলা(বাগেরহাট)
নাকফুল ও একই থান কাপড়ের প্যান্ট—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ভিত্তিতে প্রায় ৬০ দিন পর উদ্ঘাটিত হয়েছে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য। নিখোঁজের ৬০ দিন পর নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম আসমা বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। তাঁদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা বেগম। ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। তবে শুরুতে নিহতের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত মরদেহের ছবি দেখে মোংলা থানা পুলিশ নিখোঁজ আসমা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের রং ও নকশার সঙ্গে আসমার বাড়িতে থাকা আরেকটি প্যান্টের মিল রয়েছে। শুধু রং ও নকশায় নয়, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি হওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পাশাপাশি মরদেহের নাকে থাকা নাকফুলও পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।
পোশাক ও অলংকারের সূত্র ধরে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই জেলায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া গ্রামের মো. মীর আলী (৪৮)। মীর আলী বর্তমানে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাড়াবাড়ি পাড়ায় আনোয়ার মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইকরামুল শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বক্তব্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের ধরন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে নিহত আসমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে নাকফুল ও একই থান কাপড়ের প্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মরদেহের পরিহিত পোশাক ও অলংকারের মিল পাওয়ার পর তদন্ত নতুন দিক পায়। পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।
নিহত আসমা বেগম মোংলা উপজেলার মালগাজী গ্রামের আঃ জবেদ আলী ও করিমন বিবির মেয়ে। প্রায় দুই মাস ধরে পরিচয়হীন থাকা মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে পোশাক, নাকফুল, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মরদেহের পোশাক ও নাকফুলের মিল পাওয়ার পর তদন্তে অগ্রগতি আসে। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বাগেরহাট জেলা আদালতে পাঠিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন