গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে পুঁজি করে পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। এসব সহিংসতার পেছনে বহিরাগত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাত রয়েছে উল্লেখ করে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকার কর্তৃক 'মজুরি বোর্ড' গঠনকে শ্রমিকদের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বুধবার থেকে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, গাজীপুর’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও বার্তা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন, "দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।" বহিরাগতদের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে শ্রমিকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম জানান, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমেই ন্যায্য মজুরি আদায় করা সম্ভব। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের যুক্তিসংগত মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের ওপর যেন কোনো ধরনের গ্রেফতার, হয়রানি, মিথ্যা মামলা বা দমন-পীড়ন না চালানো হয়, সে দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন যে, শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে, তারা কোনো সাধারণ শ্রমিক হতে পারে না; তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বহিরাগত দুর্বৃত্ত। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস মোড়, নাওজোরসহ গাজীপুরের বেশ কিছু পয়েন্টে একটি গোষ্ঠী নাশকতার চেষ্টা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে দুষ্কৃতকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে এবং প্রধান প্রধান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরিল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার ইতিবাচক এবং তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল পোশাক খাতকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পোশাক ও শিল্প শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে পুঁজি করে পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। এসব সহিংসতার পেছনে বহিরাগত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাত রয়েছে উল্লেখ করে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকার কর্তৃক 'মজুরি বোর্ড' গঠনকে শ্রমিকদের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বুধবার থেকে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, গাজীপুর’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও বার্তা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন, "দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।" বহিরাগতদের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে শ্রমিকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম জানান, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমেই ন্যায্য মজুরি আদায় করা সম্ভব। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের যুক্তিসংগত মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের ওপর যেন কোনো ধরনের গ্রেফতার, হয়রানি, মিথ্যা মামলা বা দমন-পীড়ন না চালানো হয়, সে দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন যে, শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে, তারা কোনো সাধারণ শ্রমিক হতে পারে না; তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বহিরাগত দুর্বৃত্ত। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস মোড়, নাওজোরসহ গাজীপুরের বেশ কিছু পয়েন্টে একটি গোষ্ঠী নাশকতার চেষ্টা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে দুষ্কৃতকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে এবং প্রধান প্রধান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরিল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার ইতিবাচক এবং তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল পোশাক খাতকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পোশাক ও শিল্প শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন