লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মোঃ রিদুয়ানুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরোপ্রধান

 যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

এবারের বিশ্ব নৌ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তবায়ন: সামুদ্রিক উৎকর্ষের পথে’। সামুদ্রিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ, টেকসই ও উৎকর্ষভিত্তিক নৌখাত গড়ে তোলার ওপর এবারের প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ৬৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আসছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় জুলদিয়ায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

একাডেমি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্তরাজ্যের মার্চেন্ট নেভি প্রশিক্ষণ বোর্ড, সামুদ্রিক প্রকৌশল ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান এবং নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আইএসও ৯০০১:২০১৫ মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা সনদও বজায় রেখেছে। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ‘হোয়াইট লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষিত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ও ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে নারী ক্যাডেটদের অংশগ্রহণও দিন দিন বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সমুদ্রগামী নাবিক তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। জাহাজ ব্যবস্থাপনা, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক বীমা এবং অন্যান্য উপকূলভিত্তিক সামুদ্রিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সনদ ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

দিবসটি উপলক্ষে ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথিকে অভিবাদন প্রদান, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, শোভাযাত্রা, বেলুন উড্ডয়ন, বিনোদন পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীর্ঘ ৬৪ বছরের পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের নীল অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



মোঃ রিদুয়ানুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরোপ্রধান



 যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

এবারের বিশ্ব নৌ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তবায়ন: সামুদ্রিক উৎকর্ষের পথে’। সামুদ্রিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ, টেকসই ও উৎকর্ষভিত্তিক নৌখাত গড়ে তোলার ওপর এবারের প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ৬৪ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আসছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় জুলদিয়ায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

একাডেমি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্তরাজ্যের মার্চেন্ট নেভি প্রশিক্ষণ বোর্ড, সামুদ্রিক প্রকৌশল ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান এবং নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আইএসও ৯০০১:২০১৫ মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা সনদও বজায় রেখেছে। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ‘হোয়াইট লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষিত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার বর্তমানে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ও ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে নারী ক্যাডেটদের অংশগ্রহণও দিন দিন বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সমুদ্রগামী নাবিক তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। জাহাজ ব্যবস্থাপনা, বন্দর পরিচালনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক বীমা এবং অন্যান্য উপকূলভিত্তিক সামুদ্রিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সনদ ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

দিবসটি উপলক্ষে ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথিকে অভিবাদন প্রদান, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, শোভাযাত্রা, বেলুন উড্ডয়ন, বিনোদন পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীর্ঘ ৬৪ বছরের পথচলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের নীল অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি