বিপ্লব মল্লিক বাগেরহাটঃ
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (রেজি. নং-১৯৫৭) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোংলা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পেয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ৭৭১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন শেষে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে সভাপতি পদে আনারস প্রতীকের মোঃ সরোয়ার হোসেন (খোকন) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দোয়াতকলম প্রতীকের মোঃ সোবহান মোল্লা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয় থেকে বিভিন্ন পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ২৫ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এ ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনে দুটি পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এক পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মোঃ সরোয়ার হোসেন খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোঃ সোবহান মোল্লা। অপর পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী খুরশিদ আলম পল্টু।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্রে কর্মচারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভোটারদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ থাকার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, সেই আওয়ামী লীগ সরকার ব্যালটে বিশ্বাস করত না। তারা ম্যান চয়েজ করে রাতের আঁধারে ভোট করে দিত। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছি।
জুলফিকার আলী আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে বিশ্বাস করেন। সেই ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কার্যকরী সভাপতি পদে মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪১১ ভোট, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি পদে কলস প্রতীকে ৪২৩ ভোট এবং সহ-সভাপতি পদে কাতল মাছ প্রতীকে ৪৮১ ভোট পাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। অপর সহ-সভাপতি পদে মোঃ ইব্রাহীম খলিলুর রহমান ৩৬৮ ভোট পেয়েছেন।
অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ এনামুল হক তাল প্রতীকে এবং আল-আমিন হোসেন পানির বোতল প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মই প্রতীকে মোঃ এনামুল হক ৩৮২ ভোট এবং হাঁস প্রতীকে মোঃ শাহিন ৪০১ ভোট পেয়েছেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে এস.এম. রেজওয়ানুল আলম (রাজা) কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৩২৬ ভোট পেয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ নাজিমুদ্দিন হাওলাদার বৈদ্যুতিক বার প্রতীকে ৪২৪ ভোট, অর্থ সম্পাদক পদে মোঃ নিজাম উদ্দিন রনি তালা-চাবি প্রতীকে ৩৫১ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে এইচ.এম. ফেরদাউস হেলিকপ্টার প্রতীকে ৪৩৪ ভোট এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নাঈম আহমেদ রজনীগন্ধা প্রতীকে ৩৭১ ভোট পেয়েছেন।
বন্দর বিষয়ক সম্পাদক পদে মোঃ নিয়ামুল হক রাকি জাহাজ প্রতীকে ৮০০ ভোট, কর্মচারী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে মোঃ শাহ জালাল মাসুদ ৩২০ ভোট, প্রচার সম্পাদক পদে মোঃ রাফি সালমান রেডিও প্রতীকে ৪৮ ভোট এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ ওমর ফিরোজ ব্যাডমিন্টন প্রতীকে ৩২৭ ভোট পেয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোঃ বিল্লাল হোসেন চিংড়ি মাছ প্রতীকে ৪২১ ভোট এবং রবিউল আউয়াল জিরাফ প্রতীকে ৪০০ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত নেতৃত্ব কর্মচারীদের অধিকার, কল্যাণ ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিপ্লব মল্লিক বাগেরহাটঃ
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (রেজি. নং-১৯৫৭) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোংলা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পেয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ৭৭১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন শেষে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে সভাপতি পদে আনারস প্রতীকের মোঃ সরোয়ার হোসেন (খোকন) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দোয়াতকলম প্রতীকের মোঃ সোবহান মোল্লা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয় থেকে বিভিন্ন পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ২৫ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এ ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনে দুটি পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এক পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মোঃ সরোয়ার হোসেন খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোঃ সোবহান মোল্লা। অপর পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী খুরশিদ আলম পল্টু।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্রে কর্মচারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভোটারদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ থাকার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, সেই আওয়ামী লীগ সরকার ব্যালটে বিশ্বাস করত না। তারা ম্যান চয়েজ করে রাতের আঁধারে ভোট করে দিত। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছি।
জুলফিকার আলী আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে বিশ্বাস করেন। সেই ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কার্যকরী সভাপতি পদে মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪১১ ভোট, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি পদে কলস প্রতীকে ৪২৩ ভোট এবং সহ-সভাপতি পদে কাতল মাছ প্রতীকে ৪৮১ ভোট পাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। অপর সহ-সভাপতি পদে মোঃ ইব্রাহীম খলিলুর রহমান ৩৬৮ ভোট পেয়েছেন।
অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ এনামুল হক তাল প্রতীকে এবং আল-আমিন হোসেন পানির বোতল প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মই প্রতীকে মোঃ এনামুল হক ৩৮২ ভোট এবং হাঁস প্রতীকে মোঃ শাহিন ৪০১ ভোট পেয়েছেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে এস.এম. রেজওয়ানুল আলম (রাজা) কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৩২৬ ভোট পেয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ নাজিমুদ্দিন হাওলাদার বৈদ্যুতিক বার প্রতীকে ৪২৪ ভোট, অর্থ সম্পাদক পদে মোঃ নিজাম উদ্দিন রনি তালা-চাবি প্রতীকে ৩৫১ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে এইচ.এম. ফেরদাউস হেলিকপ্টার প্রতীকে ৪৩৪ ভোট এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নাঈম আহমেদ রজনীগন্ধা প্রতীকে ৩৭১ ভোট পেয়েছেন।
বন্দর বিষয়ক সম্পাদক পদে মোঃ নিয়ামুল হক রাকি জাহাজ প্রতীকে ৮০০ ভোট, কর্মচারী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে মোঃ শাহ জালাল মাসুদ ৩২০ ভোট, প্রচার সম্পাদক পদে মোঃ রাফি সালমান রেডিও প্রতীকে ৪৮ ভোট এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ ওমর ফিরোজ ব্যাডমিন্টন প্রতীকে ৩২৭ ভোট পেয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোঃ বিল্লাল হোসেন চিংড়ি মাছ প্রতীকে ৪২১ ভোট এবং রবিউল আউয়াল জিরাফ প্রতীকে ৪০০ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত নেতৃত্ব কর্মচারীদের অধিকার, কল্যাণ ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।

আপনার মতামত লিখুন