আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান।
কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব এলাকা থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে রিট পিটিশন দায়ের করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার মাসের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার পরও জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত এলাকার বাইরে ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি ও মহেশখালীর পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহেশখালী পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান - মহেশখালী চ্যনেল থেকে পরিবেশের ছাড়পত্র বিহীন বালি উত্তোলন অব্যহত থাকলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্ভবনা রয়েছে। তাই অবৈধ ভাবে বালি উত্তলোন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সূত্র জানায়, মাতারবাড়ী বন্দরের ব্যবহার্য রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনুমতির শর্ত অমান্য করে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা ও বাঁকখালী খালের মোহনা থেকেও বালু উত্তোলন করে আসছে।
এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকায় চার মাসের জন্য বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একদিন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখলেও পরবর্তী সময়ে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক যদি আদালতের নির্দেশনা না মানেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে? তিনি আইনের রক্ষক হয়ে আদালতের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে আবারও আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালতের আদেশটি অফিসে দেখে বিষয়টি জানাতে হবে বলে জানান।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান।
কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব এলাকা থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে রিট পিটিশন দায়ের করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার মাসের জন্য বিরত থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার পরও জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত এলাকার বাইরে ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি ও মহেশখালীর পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহেশখালী পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান - মহেশখালী চ্যনেল থেকে পরিবেশের ছাড়পত্র বিহীন বালি উত্তোলন অব্যহত থাকলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্ভবনা রয়েছে। তাই অবৈধ ভাবে বালি উত্তলোন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সূত্র জানায়, মাতারবাড়ী বন্দরের ব্যবহার্য রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনুমতির শর্ত অমান্য করে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা ও বাঁকখালী খালের মোহনা থেকেও বালু উত্তোলন করে আসছে।
এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকায় চার মাসের জন্য বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একদিন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখলেও পরবর্তী সময়ে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক যদি আদালতের নির্দেশনা না মানেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে? তিনি আইনের রক্ষক হয়ে আদালতের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে আবারও আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালতের আদেশটি অফিসে দেখে বিষয়টি জানাতে হবে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন