প্রাইম টিভি
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

দীর্ঘদিন ধরে গম্ভীর বক্তৃতা, প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও সুপরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে নিজের ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের কাছে প্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার উপস্থিতি বদলে গেছে। ৭৫ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ তরুণদের কাছে টানতে যেন তাদেরই একজন হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র এক মাস আগেও নরেন্দ্র মোদির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি আনুষ্ঠানিক কনটেন্ট পোস্ট করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে যোগ হয়েছে ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবধারার ভিডিও। এর মধ্যে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধাঁচের ভিডিও থেকে শুরু করে সেলফি-স্টাইলে দেওয়া বক্তব্যও রয়েছে, যেখানে তিনি তরুণদের প্রায়ই ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করছেন। সম্প্রতি দিল্লির এক সমাবর্তনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে ‘জেন-জি’দের জনপ্রিয় কিছু শব্দ ও ভঙ্গি ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বদলাল কৌশল

ভারতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক এক আন্দোলনের পর বিজেপি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়। ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ব্যানারে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন মূলত মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগও করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)-এর মাধ্যমে তাদের শক্ত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ধরে রাখলেও তরুণরা এখন রাজনীতির বার্তা ভিন্নভাবে গ্রহণ করছে। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই ‘জেন-জি’ প্রজন্ম ২০২৯ সালের নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান প্রভাবক ভোটার হতে যাচ্ছে।

ভিডিও নিয়ে ট্রল ও বিজেপির নতুন চেষ্টা

ইনস্টাগ্রামে মোদির এই নতুন অবতার প্রকাশের পর শুরুতেই তা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়। তার প্রথম সেলফি-স্টাইলের ভিডিওটির আলো, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও উপস্থাপনা নিয়ে নেটিজেনরা ট্রল করেন। পরে তার প্রচার দল ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও আলো বদলে নতুন ভিডিও আনে।

তবে ২২ বছর বয়সি ভারতীয় তরুণী গিনি মালিয়া মন্তব্য করেন, জেন-জি’দের ভাষা ও ফরম্যাট ব্যবহার করলেও ভিডিওগুলোতে তরুণদের মূল সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে না। ফলে অনেকেই এসব ভিডিওকে রাজনৈতিক বার্তার বদলে ‘কমেডি কনটেন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

শুধু মোদিই নন, বিজেপি তাদের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকেও মিম এবং ১৯৯০-এর দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’-এর আবহসঙ্গীত ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করছে। যদিও জেন-জিদের কাছে এসব প্রচারণার আবেদন বেশ কম।

ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা কি ভোটে রূপ নেবে?

বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া আর মূলধারার রাজনীতি বা ভোটব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়োজিত পাল জানান, ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে আলাদা। এখানে একটি ভিডিও রি-এডিট করে বা ট্রল করে বিপরীত বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। যেমন—মোদির প্রথম ইনস্টাগ্রাম রিলটি ৪০ কোটির বেশি বার দেখা হলেও অনেকেই সেটি কেটে ব্যঙ্গাত্মকভাবে পরিবেশন করেছেন।

বিশ্লেষক অনুরাগ মিনাস ভার্মা মনে করেন, ইনস্টাগ্রাম মূল রাজনীতি প্রচারের চেয়ে রসিকতা ও ব্যঙ্গের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই সেখানে গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক বার্তা সহজেই ট্রলের শিকার হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সাফল্য এখনো মূলত তাদের মাঠপর্যায়ের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে তরুণরা সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে পছন্দ না করলেও দলটির নির্বাচনে জয় পাওয়ার ক্ষমতা টিকে থাকতে পারে। তবে ইনস্টাগ্রামের পরিবেশ ও তরুণদের রুজি-রোজগার বোঝার ক্ষেত্রে বিজেপির কৌশল তৈরি হতে আরো কিছু সময় লাগবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image


আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

দীর্ঘদিন ধরে গম্ভীর বক্তৃতা, প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও সুপরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে নিজের ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের কাছে প্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার উপস্থিতি বদলে গেছে। ৭৫ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ তরুণদের কাছে টানতে যেন তাদেরই একজন হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র এক মাস আগেও নরেন্দ্র মোদির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি আনুষ্ঠানিক কনটেন্ট পোস্ট করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে যোগ হয়েছে ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবধারার ভিডিও। এর মধ্যে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধাঁচের ভিডিও থেকে শুরু করে সেলফি-স্টাইলে দেওয়া বক্তব্যও রয়েছে, যেখানে তিনি তরুণদের প্রায়ই ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করছেন। সম্প্রতি দিল্লির এক সমাবর্তনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে ‘জেন-জি’দের জনপ্রিয় কিছু শব্দ ও ভঙ্গি ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বদলাল কৌশল

ভারতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক এক আন্দোলনের পর বিজেপি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়। ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ব্যানারে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন মূলত মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগও করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)-এর মাধ্যমে তাদের শক্ত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ধরে রাখলেও তরুণরা এখন রাজনীতির বার্তা ভিন্নভাবে গ্রহণ করছে। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই ‘জেন-জি’ প্রজন্ম ২০২৯ সালের নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান প্রভাবক ভোটার হতে যাচ্ছে।

ভিডিও নিয়ে ট্রল ও বিজেপির নতুন চেষ্টা

ইনস্টাগ্রামে মোদির এই নতুন অবতার প্রকাশের পর শুরুতেই তা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়। তার প্রথম সেলফি-স্টাইলের ভিডিওটির আলো, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও উপস্থাপনা নিয়ে নেটিজেনরা ট্রল করেন। পরে তার প্রচার দল ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও আলো বদলে নতুন ভিডিও আনে।

তবে ২২ বছর বয়সি ভারতীয় তরুণী গিনি মালিয়া মন্তব্য করেন, জেন-জি’দের ভাষা ও ফরম্যাট ব্যবহার করলেও ভিডিওগুলোতে তরুণদের মূল সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে না। ফলে অনেকেই এসব ভিডিওকে রাজনৈতিক বার্তার বদলে ‘কমেডি কনটেন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

শুধু মোদিই নন, বিজেপি তাদের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকেও মিম এবং ১৯৯০-এর দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’-এর আবহসঙ্গীত ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করছে। যদিও জেন-জিদের কাছে এসব প্রচারণার আবেদন বেশ কম।

ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা কি ভোটে রূপ নেবে?

বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া আর মূলধারার রাজনীতি বা ভোটব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়োজিত পাল জানান, ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে আলাদা। এখানে একটি ভিডিও রি-এডিট করে বা ট্রল করে বিপরীত বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। যেমন—মোদির প্রথম ইনস্টাগ্রাম রিলটি ৪০ কোটির বেশি বার দেখা হলেও অনেকেই সেটি কেটে ব্যঙ্গাত্মকভাবে পরিবেশন করেছেন।

বিশ্লেষক অনুরাগ মিনাস ভার্মা মনে করেন, ইনস্টাগ্রাম মূল রাজনীতি প্রচারের চেয়ে রসিকতা ও ব্যঙ্গের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই সেখানে গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক বার্তা সহজেই ট্রলের শিকার হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সাফল্য এখনো মূলত তাদের মাঠপর্যায়ের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে তরুণরা সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে পছন্দ না করলেও দলটির নির্বাচনে জয় পাওয়ার ক্ষমতা টিকে থাকতে পারে। তবে ইনস্টাগ্রামের পরিবেশ ও তরুণদের রুজি-রোজগার বোঝার ক্ষেত্রে বিজেপির কৌশল তৈরি হতে আরো কিছু সময় লাগবে।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি