লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর হাফিজ রাজধানীতে গ্রেপ্তার।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর হাফিজ রাজধানীতে গ্রেপ্তার।

‎দুই ছেলে হারিয়ে নিঃস্ব, শেষ বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার বৃদ্ধ দম্পতির

‎দুই ছেলে হারিয়ে নিঃস্ব, শেষ বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার বৃদ্ধ দম্পতির

টাঙ্গাইলে ৬ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণ, মুখ থেতলে ফেলায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশুটি

টাঙ্গাইলে ৬ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণ, মুখ থেতলে ফেলায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশুটি

পটুয়াখালীতে শিক্ষক নেতাকে হয়রানি ও নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

পটুয়াখালীতে শিক্ষক নেতাকে হয়রানি ও নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

সোনারগাঁয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে  ধর্ষণের  অভিযোগে ফুফা গ্রেফতার

সোনারগাঁয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফুফা গ্রেফতার

হোসেনপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

হোসেনপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

মোংলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

মোংলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

‎দুই ছেলে হারিয়ে নিঃস্ব, শেষ বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার বৃদ্ধ দম্পতির

‎দুই ছেলে হারিয়ে নিঃস্ব, শেষ বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার বৃদ্ধ দম্পতির

‎দুই ছেলের মৃত্যু, পুত্রবধূর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চলে যাওয়া—সব হারিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দুনিগ্রাম গ্রামের হানেছ আলী (৮৯) ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া আক্তারের (৭৯)। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা এই বৃদ্ধ দম্পতির এখন একমাত্র ভরসা চার বছর বয়সে মা হারানো নাতি আশিকুর রহমান। কিন্তু দিনমজুরের সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
‎শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিনে দুনিগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা একটি ঘরেই কোনো রকমে দিন কাটছে এই পরিবারের। ঘরের বেড়া নষ্ট, বিছানা ছেঁড়া। টিনের চালের অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। শীত এলে ভাঙা বাঁশ ও পাটখড়ির বেড়া দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে ঘরে।
‎বসতভিটায় নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচাগার কিংবা নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা। এমন দুর্বিষহ পরিবেশেই জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
‎একে একে হারিয়েছেন স্বজনদের
‎পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে বড় ছেলে জুলমত আলী বালু তোলার কাজ করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ হন। এরপর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্ত্রী আরেফা আক্তার। রেখে যান মাত্র চার বছরের শিশু আশিকুরকে।
‎এর কিছুদিন পর শ্বাসকষ্টে মারা যান ছোট ছেলে সোহরাব আলী। একের পর এক স্বজন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন হানেছ আলী ও সুফিয়া আক্তার। চার বছরের নাতিকে নিয়ে শুরু হয় তাঁদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
‎চোখের জল মুছতে মুছতে হানেছ আলী বলেন, “দুইটা জোয়ান ছেলে চোখের সামনে চইলা গেল। বড় ছেলের বউডাও ক্যানসারে মরল। চার বছরের নাতিডারে নিয়া অথৈ সাগরে পড়ছিলাম। আল্লাহ তাও বাঁচায় রাখছে, কিন্তু এহন আর শরীর চলে না বাবা। একটু শান্তিতে ঘুমানোর একটা জায়গা চাই।”
‎ভিক্ষা করে বড় করেছেন নাতিকে
‎বৃদ্ধা সুফিয়া আক্তার জানান, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে ভিক্ষা করে এবং অনেক সময় নিজেরা না খেয়ে থেকে নাতি আশিকুরকে বড় করেছেন তাঁরা। কষ্ট করে পড়াশোনাও করিয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর।
‎বর্তমানে আশিকুর রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে দিনমজুরের কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। যা আয় হয়, তা দিয়ে তিনজনের দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
‎আশিকুর রহমান বলেন, “দাদা-দাদি অনেক কষ্ট করে আমাকে বড় করেছেন। টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা নিতে পারিনি। এখন দিনমজুরের কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে দাদা-দাদির মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। আমার আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু দাদা-দাদির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় আর আমার একটা স্থায়ী চাকরি দরকার, যেন তাঁদের শেষ বয়সে একটু সুখে রাখতে পারি।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


‎দুই ছেলে হারিয়ে নিঃস্ব, শেষ বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার বৃদ্ধ দম্পতির

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

‎দুই ছেলের মৃত্যু, পুত্রবধূর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চলে যাওয়া—সব হারিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দুনিগ্রাম গ্রামের হানেছ আলী (৮৯) ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া আক্তারের (৭৯)। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা এই বৃদ্ধ দম্পতির এখন একমাত্র ভরসা চার বছর বয়সে মা হারানো নাতি আশিকুর রহমান। কিন্তু দিনমজুরের সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
‎শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরেজমিনে দুনিগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা একটি ঘরেই কোনো রকমে দিন কাটছে এই পরিবারের। ঘরের বেড়া নষ্ট, বিছানা ছেঁড়া। টিনের চালের অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। শীত এলে ভাঙা বাঁশ ও পাটখড়ির বেড়া দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে ঘরে।
‎বসতভিটায় নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচাগার কিংবা নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা। এমন দুর্বিষহ পরিবেশেই জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
‎একে একে হারিয়েছেন স্বজনদের
‎পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে বড় ছেলে জুলমত আলী বালু তোলার কাজ করতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ হন। এরপর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্ত্রী আরেফা আক্তার। রেখে যান মাত্র চার বছরের শিশু আশিকুরকে।
‎এর কিছুদিন পর শ্বাসকষ্টে মারা যান ছোট ছেলে সোহরাব আলী। একের পর এক স্বজন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন হানেছ আলী ও সুফিয়া আক্তার। চার বছরের নাতিকে নিয়ে শুরু হয় তাঁদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
‎চোখের জল মুছতে মুছতে হানেছ আলী বলেন, “দুইটা জোয়ান ছেলে চোখের সামনে চইলা গেল। বড় ছেলের বউডাও ক্যানসারে মরল। চার বছরের নাতিডারে নিয়া অথৈ সাগরে পড়ছিলাম। আল্লাহ তাও বাঁচায় রাখছে, কিন্তু এহন আর শরীর চলে না বাবা। একটু শান্তিতে ঘুমানোর একটা জায়গা চাই।”
‎ভিক্ষা করে বড় করেছেন নাতিকে
‎বৃদ্ধা সুফিয়া আক্তার জানান, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে ভিক্ষা করে এবং অনেক সময় নিজেরা না খেয়ে থেকে নাতি আশিকুরকে বড় করেছেন তাঁরা। কষ্ট করে পড়াশোনাও করিয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর।
‎বর্তমানে আশিকুর রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে দিনমজুরের কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। যা আয় হয়, তা দিয়ে তিনজনের দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
‎আশিকুর রহমান বলেন, “দাদা-দাদি অনেক কষ্ট করে আমাকে বড় করেছেন। টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা নিতে পারিনি। এখন দিনমজুরের কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে দাদা-দাদির মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। আমার আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু দাদা-দাদির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় আর আমার একটা স্থায়ী চাকরি দরকার, যেন তাঁদের শেষ বয়সে একটু সুখে রাখতে পারি।”


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি