২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। তিনটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩৪৭ জন। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৮৯ জন শিক্ষার্থী। কলেজটির পাসের হার মাত্র ২৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি কলেজের এমন ফলাফল শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১১০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৯৬ জন।
মানবিক বিভাগে ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫২৭ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৮০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৬৬ জন। এ বিভাগ থেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ চারজনের মধ্যে তিনজনেরও বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
এমন ফলাফলের পেছনে দায় কার, কোথায় রয়েছে ঘাটতি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নিয়মিত পাঠদান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের জবাবদিহি, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফলের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন, এই ফলাফলের দায় নেবে কে? শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। তিনটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩৪৭ জন। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৮৯ জন শিক্ষার্থী। কলেজটির পাসের হার মাত্র ২৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি কলেজের এমন ফলাফল শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১১০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৯৬ জন।
মানবিক বিভাগে ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫২৭ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৮০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৬৬ জন। এ বিভাগ থেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ চারজনের মধ্যে তিনজনেরও বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
এমন ফলাফলের পেছনে দায় কার, কোথায় রয়েছে ঘাটতি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নিয়মিত পাঠদান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের জবাবদিহি, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলাফলের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন, এই ফলাফলের দায় নেবে কে? শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন