লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরে নৌবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ৭ লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল

চাঁদপুরে নৌবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ৭ লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল


শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর :


মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৭০ মিটার অবৈধ জাল এবং আরও ২২টি জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের অধীন নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট চাঁদপুরের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের আওতায় আনন্দবাজার, দাশাদি খাল, শহর মালি, লালপুর, ৩ নম্বর কয়লা ঘাট, চাঁদপুর মোহনা, গাজীর টেক, মিয়ার বাজার, কানুদি ও আমিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা জাল ধ্বংস করা হয়।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইলিশের সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ আহরণ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর জাহাজ, বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও বোটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

নৌবাহিনীর এ তৎপরতার লক্ষ্য হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন বিচরণ ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে ইলিশের বংশবিস্তার ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নির্ধারিত সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সব প্রজাতির মাছ আহরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মা-মেঘনাবিধৌত চাঁদপুরের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক গভীর। তাই প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধ করা শুধু আইন বাস্তবায়নের বিষয় নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেরও অংশ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নৌবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হবে, বাড়বে ভবিষ্যৎ উৎপাদন এবং সমৃদ্ধ হবে দেশের মৎস্যসম্পদ।

ছবির ক্যাপশন: মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে চাঁদপুরের বিভিন্ন নদ-নদী ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল জব্দ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদপুরে নৌবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ৭ লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর :


মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৭০ মিটার অবৈধ জাল এবং আরও ২২টি জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের অধীন নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট চাঁদপুরের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের আওতায় আনন্দবাজার, দাশাদি খাল, শহর মালি, লালপুর, ৩ নম্বর কয়লা ঘাট, চাঁদপুর মোহনা, গাজীর টেক, মিয়ার বাজার, কানুদি ও আমিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা জাল ধ্বংস করা হয়।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইলিশের সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ আহরণ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর জাহাজ, বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও বোটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

নৌবাহিনীর এ তৎপরতার লক্ষ্য হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন বিচরণ ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে ইলিশের বংশবিস্তার ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নির্ধারিত সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সব প্রজাতির মাছ আহরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মা-মেঘনাবিধৌত চাঁদপুরের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক গভীর। তাই প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধ করা শুধু আইন বাস্তবায়নের বিষয় নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেরও অংশ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নৌবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হবে, বাড়বে ভবিষ্যৎ উৎপাদন এবং সমৃদ্ধ হবে দেশের মৎস্যসম্পদ।

ছবির ক্যাপশন: মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে চাঁদপুরের বিভিন্ন নদ-নদী ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল জব্দ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি