লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষক বদলি: নীতিমালা একদিকে, বাস্তবতা অন্যদিকে

শিক্ষক বদলি: নীতিমালা একদিকে, বাস্তবতা অন্যদিকে

সবুজ হোসেন, নওগাঁ:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত শর্ত থাকা সত্ত্বেও নওগাঁর বদলগাছীতে সে গুলোর প্রয়োগ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকেও বদলি হয়েছে, একই শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে কনিষ্ঠকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এক শিক্ষিকাকে দ্বিতীয়বার প্রশাসনিক শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুরো বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ অনুযায়ী বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি স্পষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে গুলো হলো, ১. চাকরিতে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর এবং বর্তমান বিদ্যালয়ে তিন বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা বদলিযোগ্য বিবেচিত হবেন না। ২. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত, সেখান থেকে কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন না। ৩. একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদনকারী থাকলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক/শিক্ষিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে বাস্তবে এই নীতিমালার ব্যাপক লঙ্ঘন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনটি বড় অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সে গুলো হলো, ১. শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে বদলিঃ শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ফয়জাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন এবং রনাহার, পরশুরামপুর ও উত্তর শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন করে শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। শর্তানুযায়ী এসব বিদ্যালয় থেকে আবেদনই গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও সেখান থেকে আবেদন গ্রহণ ও বদলির আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর সাদিশপুর ও জগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুজন করে শিক্ষক বদলি করায় ওই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২. শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে উপেক্ষাঃ বারাতৈল, নিহনপুর, রামশাপুর, বালুভরা, চাঁপাডাল, বামনপাড়া ও থুপশহরসহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক স্থান পাননি। কোন যোগ্যতায় নির্বাচন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া অনুমোদিত শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও বদলি আদেশে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে' (অন্য শিক্ষক না আসা পর্যন্ত অবমুক্ত না করা) শর্ত উল্লেখ করায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

৩. মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বার শাস্তিমূলক বদলিঃ সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানাকে ২০১৯ সালে প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে নালুকাবাড়ি থেকে শহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তিন বছর পর তিনি হাটশাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ আবারও প্রশাসনিক শাস্তিস্বরূপ উত্তর রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয় এবং ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখা হয়। অভিযোগ, আগের বদলির পর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিয়ম ভেঙে তাকে দ্বিতীয়বার বদলি করা হয়েছে (বদলি আদেশের ১৯ নম্বর ক্রমিকে)। শারমিন সুলতানা দাবি করেন, তিনি স্থানীয়ভাবে আবেদন করেননি; সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন এবং সেখান থেকেই বদলি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত আছেন বলেও তিনি জানান।

বারাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদের ক্ষেত্রে সাতজন শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন ছিলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ (যোগদান ১৬ জুন ২০০৩, বর্তমান বিদ্যালয়ে ২০১২ সাল থেকে কর্মরত)। তাঁর চাকরির বয়স ১৪ বছর হলেও তিনি স্থান পাননি। পরিবর্তে ২০২৩ সালে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করা সহকারী শিক্ষিকা মাহজাবিন নাজনীনকে বদলি দেওয়া হয়। আব্দুল মতিন জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্মস্থল থাকায় তাঁর কষ্ট হয়। বাড়ির পাশে বারাতৈল বিদ্যালয়ে পদ শূন্য হওয়ায় তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বদলি আদেশ দেখে তিনি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন। তিনি মাস্টার ট্রেইনার এবং উপজেলার স্কাউট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ হিসেবে তাকেই বদলি দেওয়া উচিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে গঠিত ‘আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আটজন শিক্ষককে বদলি এবং ১১ জনকে প্রতিস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়। তবে কমিটির কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা ও দায় এড়ানোর ছাপ পাওয়া গেছে।

বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুর রহমান স্বীকার করেন, কিছুটা নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। তবে তিনি দায়ী নন বলে দাবি করেন এবং বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তেই এসব বদলি হয়েছে। ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সেটি অগোচরে হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমিটি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করেছে। নীতিমালা অমান্য করে বদলি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে।

নীতিমালা অমান্য করে সম্পন্ন হওয়া এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অসঙ্গতিপূর্ণ আবেদনগুলো কীভাবে কমিটির ছাড়পত্র পেল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষক বদলি: নীতিমালা একদিকে, বাস্তবতা অন্যদিকে

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


সবুজ হোসেন, নওগাঁ:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত শর্ত থাকা সত্ত্বেও নওগাঁর বদলগাছীতে সে গুলোর প্রয়োগ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকেও বদলি হয়েছে, একই শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে কনিষ্ঠকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এক শিক্ষিকাকে দ্বিতীয়বার প্রশাসনিক শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুরো বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল।



উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ অনুযায়ী বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি স্পষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে গুলো হলো, ১. চাকরিতে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর এবং বর্তমান বিদ্যালয়ে তিন বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা বদলিযোগ্য বিবেচিত হবেন না। ২. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত, সেখান থেকে কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন না। ৩. একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদনকারী থাকলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক/শিক্ষিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে বাস্তবে এই নীতিমালার ব্যাপক লঙ্ঘন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনটি বড় অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সে গুলো হলো, ১. শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে বদলিঃ শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ফয়জাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন এবং রনাহার, পরশুরামপুর ও উত্তর শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন করে শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। শর্তানুযায়ী এসব বিদ্যালয় থেকে আবেদনই গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও সেখান থেকে আবেদন গ্রহণ ও বদলির আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর সাদিশপুর ও জগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুজন করে শিক্ষক বদলি করায় ওই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


২. শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে উপেক্ষাঃ বারাতৈল, নিহনপুর, রামশাপুর, বালুভরা, চাঁপাডাল, বামনপাড়া ও থুপশহরসহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক স্থান পাননি। কোন যোগ্যতায় নির্বাচন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া অনুমোদিত শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও বদলি আদেশে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে' (অন্য শিক্ষক না আসা পর্যন্ত অবমুক্ত না করা) শর্ত উল্লেখ করায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


৩. মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বার শাস্তিমূলক বদলিঃ সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানাকে ২০১৯ সালে প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে নালুকাবাড়ি থেকে শহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তিন বছর পর তিনি হাটশাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ আবারও প্রশাসনিক শাস্তিস্বরূপ উত্তর রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয় এবং ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখা হয়। অভিযোগ, আগের বদলির পর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিয়ম ভেঙে তাকে দ্বিতীয়বার বদলি করা হয়েছে (বদলি আদেশের ১৯ নম্বর ক্রমিকে)। শারমিন সুলতানা দাবি করেন, তিনি স্থানীয়ভাবে আবেদন করেননি; সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন এবং সেখান থেকেই বদলি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত আছেন বলেও তিনি জানান।


বারাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদের ক্ষেত্রে সাতজন শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন ছিলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ (যোগদান ১৬ জুন ২০০৩, বর্তমান বিদ্যালয়ে ২০১২ সাল থেকে কর্মরত)। তাঁর চাকরির বয়স ১৪ বছর হলেও তিনি স্থান পাননি। পরিবর্তে ২০২৩ সালে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করা সহকারী শিক্ষিকা মাহজাবিন নাজনীনকে বদলি দেওয়া হয়। আব্দুল মতিন জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্মস্থল থাকায় তাঁর কষ্ট হয়। বাড়ির পাশে বারাতৈল বিদ্যালয়ে পদ শূন্য হওয়ায় তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বদলি আদেশ দেখে তিনি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন। তিনি মাস্টার ট্রেইনার এবং উপজেলার স্কাউট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ হিসেবে তাকেই বদলি দেওয়া উচিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে গঠিত ‘আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আটজন শিক্ষককে বদলি এবং ১১ জনকে প্রতিস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়। তবে কমিটির কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা ও দায় এড়ানোর ছাপ পাওয়া গেছে।


বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুর রহমান স্বীকার করেন, কিছুটা নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। তবে তিনি দায়ী নন বলে দাবি করেন এবং বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তেই এসব বদলি হয়েছে। ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক করার চেষ্টা করেছি। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সেটি অগোচরে হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করা হবে।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমিটি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করেছে। নীতিমালা অমান্য করে বদলি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে।


নীতিমালা অমান্য করে সম্পন্ন হওয়া এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অসঙ্গতিপূর্ণ আবেদনগুলো কীভাবে কমিটির ছাড়পত্র পেল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি