লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক ঐক্য ও একক প্রার্থী নিশ্চিতের আহ্বান দক্ষিণ জেলা বিএনপির

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জরুরী সাংগঠনিক সভা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জরুরী সাংগঠনিক সভা

(মোঃরিদুওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান) 

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণ, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক জরুরি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দোস্ত বিল্ডিংস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন। সভায় জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে দ্রুত নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূলের মতামত, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে জেলা বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে। সভায় বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করা হবে। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকলে কিংবা মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলের ভেতরের মতপার্থক্যকে নির্বাচনী বিভাজনে রূপ না দিয়ে সাংগঠনিক ঐক্যের মাধ্যমে তা নিরসনের ওপর জোর দেন নেতারা। বক্তারা বলেন, “দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান হচ্ছে—দীর্ঘ ১৭ বছর জেল, জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে যারা দলের সঙ্গে থেকেছেন, তৃণমূলের সেই নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুযোগ দিতে হবে।” দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে দলের আদর্শ ধারণকারী ও তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে নেতারা গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দলের তৃণমূল সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার বিষয়টিও জড়িত। তাই কোনো এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকলে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা বিভাজন তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে একজনকে সমর্থন দিয়ে সবাইকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বেগবান করা, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার করতে হবে। নেতারা বলেন, রাজনীতিতে ভুল বোঝাবুঝি, ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য থাকতেই পারে। এটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু দিনশেষে বিএনপি আমাদের সবার দল। দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ও বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সবার দায়িত্ব হচ্ছে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সামনে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় হতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে হবে। দলের মনোনীত বা সমর্থিত একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমন্বয় ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। যারা দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন—প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সব উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুততর করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা পর্যায়ে জমা দেবে। পরে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দলীয়ভাবে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সভায় নেতারা আরও বলেন, একজনের প্রার্থী হওয়া মানে অন্যদের রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নয়; বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থে একজনের পেছনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সাংগঠনিক রাজনীতির শক্তি। ব্যক্তিগত প্রত্যাশার চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখার আহ্বান জানিয়েি তাঁরা বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য, শৃঙ্খলা ও তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সভায় যুগ্ম জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস,যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আজিজুল হক চৌধুরী, আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, রেজাউল করিম চৌধুরী নেচার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, সদস্য এস এম মামুন মিয়া, আমিনুর রহমান চৌধুরী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, হাজী মো. রফিকুল আলম, মাস্টার মোহাম্মদ রফিক, সরোয়ার হোসেন মাসুদ, জাহাঙ্গীর কবির, হাজী মোহাম্মদ ওসমান, জাগির আহমদ, মোজাম্মেল হক বেলাল, জসিম উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, শেফায়ত উল্লাহ চক্ষু, ফৌজুল কবির ফজলু, মোহাম্মদ শাহীনুর শাহীন, মোহাম্মদ ইসমাইল, ইখতিয়ার হোসেন ইফতু, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, জাবেদ মেহেদী হাসান সুজন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, দিল মোহাম্মদ মনজু, এম মনছুর উদ্দিন, মোহাম্মদ ফারুক, সালেহ জহুর, দেলোয়ার আজীম, শাহাদাত হোসেন সুমন ও দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জরুরী সাংগঠনিক সভা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



(মোঃরিদুওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান) 


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণ, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক জরুরি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দোস্ত বিল্ডিংস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন। সভায় জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে দ্রুত নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূলের মতামত, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে জেলা বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে। সভায় বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করা হবে। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকলে কিংবা মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলের ভেতরের মতপার্থক্যকে নির্বাচনী বিভাজনে রূপ না দিয়ে সাংগঠনিক ঐক্যের মাধ্যমে তা নিরসনের ওপর জোর দেন নেতারা। বক্তারা বলেন, “দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান হচ্ছে—দীর্ঘ ১৭ বছর জেল, জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে যারা দলের সঙ্গে থেকেছেন, তৃণমূলের সেই নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুযোগ দিতে হবে।” দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে দলের আদর্শ ধারণকারী ও তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে নেতারা গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দলের তৃণমূল সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার বিষয়টিও জড়িত। তাই কোনো এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকলে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা বিভাজন তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে একজনকে সমর্থন দিয়ে সবাইকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বেগবান করা, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার করতে হবে। নেতারা বলেন, রাজনীতিতে ভুল বোঝাবুঝি, ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য থাকতেই পারে। এটি রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু দিনশেষে বিএনপি আমাদের সবার দল। দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ও বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সবার দায়িত্ব হচ্ছে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সামনে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় হতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে হবে। দলের মনোনীত বা সমর্থিত একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমন্বয় ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। যারা দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন—প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সব উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুততর করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা পর্যায়ে জমা দেবে। পরে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দলীয়ভাবে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সভায় নেতারা আরও বলেন, একজনের প্রার্থী হওয়া মানে অন্যদের রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নয়; বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থে একজনের পেছনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সাংগঠনিক রাজনীতির শক্তি। ব্যক্তিগত প্রত্যাশার চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখার আহ্বান জানিয়েি তাঁরা বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য, শৃঙ্খলা ও তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সভায় যুগ্ম জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস,যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আজিজুল হক চৌধুরী, আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, রেজাউল করিম চৌধুরী নেচার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, সদস্য এস এম মামুন মিয়া, আমিনুর রহমান চৌধুরী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, হাজী মো. রফিকুল আলম, মাস্টার মোহাম্মদ রফিক, সরোয়ার হোসেন মাসুদ, জাহাঙ্গীর কবির, হাজী মোহাম্মদ ওসমান, জাগির আহমদ, মোজাম্মেল হক বেলাল, জসিম উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, শেফায়ত উল্লাহ চক্ষু, ফৌজুল কবির ফজলু, মোহাম্মদ শাহীনুর শাহীন, মোহাম্মদ ইসমাইল, ইখতিয়ার হোসেন ইফতু, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, জাবেদ মেহেদী হাসান সুজন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, দিল মোহাম্মদ মনজু, এম মনছুর উদ্দিন, মোহাম্মদ ফারুক, সালেহ জহুর, দেলোয়ার আজীম, শাহাদাত হোসেন সুমন ও দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি