ফরিদ উদ্দিন, সাতকানিয়া,চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে অবস্থিত সিটি সেন্টারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হামিম (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
ঘটনার মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘাতক রোহানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
৮সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীহাট সিটি সেন্টারে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিম উপজেলার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের 'হাসমতের দোকান' এলাকা সংলগ্ন আফজলনগরের মৃত ফরিদুল আলমের একমাত্র ছেলে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ঘাতক রোহান একই ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ কাজিরখীল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান গনির ছেলে।
যেভাবে ঘটে ঘটনা:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে সিটি সেন্টারে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রোহান ক্ষিপ্ত হয়ে হা-মিমকে ধারালো ছুরি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হা-মিমকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়,
তবে চমেক নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পলাতক ঘাতক যেভাবে আটক:
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত রোহান ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি স্থানে ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রাত ১০টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে রোহান হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে যে, হামিম প্রথমে আঘাত করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেছে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে সাতকানিয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য:
ছদাহা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, "আটক রোহান এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মারামারি এবং রাতবিরাতে মহড়া চালিয়ে আসছিল।
এমনকি কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দিয়েও এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও তর্কে জড়ায় সে।
তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।"
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, তাঁদের মধ্যকার পূর্ববিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত পরশু এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরেই শেষ পর্যন্ত এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সততা নিশ্চিত করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, নিহত হা-মিমের ওপর হামলার পর ঘাতক রোহান জনতার হাতে আটক হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফরিদ উদ্দিন, সাতকানিয়া,চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে অবস্থিত সিটি সেন্টারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হামিম (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
ঘটনার মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘাতক রোহানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
৮সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীহাট সিটি সেন্টারে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিম উপজেলার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের 'হাসমতের দোকান' এলাকা সংলগ্ন আফজলনগরের মৃত ফরিদুল আলমের একমাত্র ছেলে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ঘাতক রোহান একই ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ কাজিরখীল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান গনির ছেলে।
যেভাবে ঘটে ঘটনা:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে সিটি সেন্টারে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রোহান ক্ষিপ্ত হয়ে হা-মিমকে ধারালো ছুরি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হা-মিমকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়,
তবে চমেক নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পলাতক ঘাতক যেভাবে আটক:
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত রোহান ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি স্থানে ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রাত ১০টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে রোহান হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে যে, হামিম প্রথমে আঘাত করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেছে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে সাতকানিয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য:
ছদাহা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, "আটক রোহান এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মারামারি এবং রাতবিরাতে মহড়া চালিয়ে আসছিল।
এমনকি কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দিয়েও এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও তর্কে জড়ায় সে।
তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।"
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, তাঁদের মধ্যকার পূর্ববিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত পরশু এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরেই শেষ পর্যন্ত এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সততা নিশ্চিত করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, নিহত হা-মিমের ওপর হামলার পর ঘাতক রোহান জনতার হাতে আটক হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন