সবুজ হোসেন, নওগাঁ:
নওগাঁর আত্রাইয়ে সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে পুরোদমে শুরু হয় শুঁটকি তৈরির মৌসুম। তবে এবার মৌসুমের আগেই শুরু হয়েছে শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। উপজেলার ভর-তেতুলিয়া এলাকায় খোলা আকাশের নিচে সারি সারি মাচায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
নদী-নালা ও জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রথমে পরিষ্কার করে বাঁশের তৈরি মাচা ও জালের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর রোদে শুকিয়ে কয়েক দফা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব মাছ পরিণত হচ্ছে শুঁটকিতে।
স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদনকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভর-তেতুলিয়া এলাকায় প্রায় ১৪৭ দশমিক ৭ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল। এবার আগাম উৎপাদন শুরু হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুঁটকি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। মাছ পরিষ্কার, মাচায় বিছানো, শুকানো, বাছাই ও প্যাকেটজাতসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।
শুঁটকি চাষী নাফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কোন অনুদান বা সহায়তা পাইনা। যদি সরকারিভাবে আমাদের অনুদান বা সহায়তা করে তাহলে আরো বড় মপরিসরে শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব।
উৎপাদনকারীরা জানান, আত্রাইয়ে উৎপাদিত শুঁটকি প্রথমে দেশের অন্যতম বড় শুঁটকির বাজার সৈয়দপুরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই শুঁটকি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সরকারি কোনো অনুদান বা প্রণোদনা না পেলেও মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় শুঁটকি উৎপাদনকারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন ও সংরক্ষণে এসব প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, গত বছরে উপজেলার ভর-তেতুরিয়া শুঁটকি পল্লীতে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৭ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল তবে এবার আগাম বৃষ্টিতে দেশীয় মাছ আগেই পাওয়া যাচ্ছে সেজন্য কিছু চাষীরা আগাম উৎপাদন শুরু করেছে। এবার আগাম উৎপাদন শুরু হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। আমরা চাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ভালো মানের শুঁটকি উৎপাদন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বাড়ানো গেলে আত্রাইয়ের এই খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবুজ হোসেন, নওগাঁ:
নওগাঁর আত্রাইয়ে সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে পুরোদমে শুরু হয় শুঁটকি তৈরির মৌসুম। তবে এবার মৌসুমের আগেই শুরু হয়েছে শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। উপজেলার ভর-তেতুলিয়া এলাকায় খোলা আকাশের নিচে সারি সারি মাচায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
নদী-নালা ও জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রথমে পরিষ্কার করে বাঁশের তৈরি মাচা ও জালের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর রোদে শুকিয়ে কয়েক দফা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব মাছ পরিণত হচ্ছে শুঁটকিতে।
স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদনকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভর-তেতুলিয়া এলাকায় প্রায় ১৪৭ দশমিক ৭ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল। এবার আগাম উৎপাদন শুরু হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুঁটকি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। মাছ পরিষ্কার, মাচায় বিছানো, শুকানো, বাছাই ও প্যাকেটজাতসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।
শুঁটকি চাষী নাফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কোন অনুদান বা সহায়তা পাইনা। যদি সরকারিভাবে আমাদের অনুদান বা সহায়তা করে তাহলে আরো বড় মপরিসরে শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব।
উৎপাদনকারীরা জানান, আত্রাইয়ে উৎপাদিত শুঁটকি প্রথমে দেশের অন্যতম বড় শুঁটকির বাজার সৈয়দপুরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই শুঁটকি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সরকারি কোনো অনুদান বা প্রণোদনা না পেলেও মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় শুঁটকি উৎপাদনকারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন ও সংরক্ষণে এসব প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, গত বছরে উপজেলার ভর-তেতুরিয়া শুঁটকি পল্লীতে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৭ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল তবে এবার আগাম বৃষ্টিতে দেশীয় মাছ আগেই পাওয়া যাচ্ছে সেজন্য কিছু চাষীরা আগাম উৎপাদন শুরু করেছে। এবার আগাম উৎপাদন শুরু হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। আমরা চাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ভালো মানের শুঁটকি উৎপাদন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বাড়ানো গেলে আত্রাইয়ের এই খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন