লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো বিলাসবহুল ৪ টি গাড়ি শনাক্ত করলো : কাস্টমস

যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো বিলাসবহুল ৪ টি গাড়ি শনাক্ত করলো : কাস্টমস

বিপ্লব মল্লিক মোংলা,বাগেরহাটঃ

ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশের (পার্টস) তথ্য দিয়ে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি কেটে আনার এক বড় চালানের জালিয়াতি উন্মোচন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। ৩ থেকে ৪টি বড় টুকরোয় কেটে আনা চার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চারটি বিলাসবহুল গাড়ি মোংলা বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করছিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।"""

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টার কথা জানায়।

তবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক 

( ট্রাফিক) মোঃ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলেও তিনি মোংলা কাস্টমস অফিসে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।""'

​এনবিআর সূত্রে জানা যায়, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে চালানটি আনা হয়। সি-৬৯০৪ নম্বরের বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের এক প্রতিষ্ঠান আমদানিকারক হিসেবে এবং খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।"''

​চালানটিতে ১৪টি ক্যাটালগের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং বা হেডলাইটের ঘোষণা দিয়ে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ধরে শুল্ক-কর বাবদ জমা দিতে চাওয়া হয় মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। অথচ ভেতরে থাকা চারটি গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।"""

​জব্দ হওয়া চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে— ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ (বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা+), ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ (বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা), ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০আই (বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা) এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট (বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা)।

​গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে খুলনা কাস্টমস গোয়েন্দা ও মোংলা সার্কেলের সহায়তায় চালানটির খালাস আটকে দেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়।''""

​পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিআরটিএ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।"""

 তাতে দেখা যায়, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং ও প্রয়োজনীয় সেন্সর অক্ষত রেখেই বডির সামনের অংশ, পেছনের অংশ ও ছাদ ৩-৪টি টুকরো করে আনা হয়েছে। এগুলো আবার জোড়া দিলেই আস্ত বিলাসবহুল গাড়ির মূল রূপ ফিরে পাবে।""'

​কাস্টমস আইন (জিআরআই বিধি) অনুযায়ী, খণ্ডিত পণ্যে যদি মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বহাল থাকে, তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ পণ্য হিসেবেই গণ্য করতে হয়। বর্তমানে গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ক্ষমতা, বয়স ও অবচয় বিবেচনা করে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো বিলাসবহুল ৪ টি গাড়ি শনাক্ত করলো : কাস্টমস

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image




বিপ্লব মল্লিক মোংলা,বাগেরহাটঃ

ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশের (পার্টস) তথ্য দিয়ে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি কেটে আনার এক বড় চালানের জালিয়াতি উন্মোচন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। ৩ থেকে ৪টি বড় টুকরোয় কেটে আনা চার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চারটি বিলাসবহুল গাড়ি মোংলা বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করছিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।"""


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টার কথা জানায়।

তবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক 

( ট্রাফিক) মোঃ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলেও তিনি মোংলা কাস্টমস অফিসে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।""'



​এনবিআর সূত্রে জানা যায়, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে চালানটি আনা হয়। সি-৬৯০৪ নম্বরের বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের এক প্রতিষ্ঠান আমদানিকারক হিসেবে এবং খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।"''



​চালানটিতে ১৪টি ক্যাটালগের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং বা হেডলাইটের ঘোষণা দিয়ে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ধরে শুল্ক-কর বাবদ জমা দিতে চাওয়া হয় মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। অথচ ভেতরে থাকা চারটি গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।"""



​জব্দ হওয়া চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে— ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ (বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা+), ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ (বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা), ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০আই (বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা) এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট (বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা)।

​গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে খুলনা কাস্টমস গোয়েন্দা ও মোংলা সার্কেলের সহায়তায় চালানটির খালাস আটকে দেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়।''""



​পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিআরটিএ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।"""


 তাতে দেখা যায়, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং ও প্রয়োজনীয় সেন্সর অক্ষত রেখেই বডির সামনের অংশ, পেছনের অংশ ও ছাদ ৩-৪টি টুকরো করে আনা হয়েছে। এগুলো আবার জোড়া দিলেই আস্ত বিলাসবহুল গাড়ির মূল রূপ ফিরে পাবে।""'



​কাস্টমস আইন (জিআরআই বিধি) অনুযায়ী, খণ্ডিত পণ্যে যদি মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বহাল থাকে, তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ পণ্য হিসেবেই গণ্য করতে হয়। বর্তমানে গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ক্ষমতা, বয়স ও অবচয় বিবেচনা করে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি