কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ী সুমন সাহাকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমল গ্রহণকারী সিআর-২ নম্বর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী সুমন সাহা ভৈরব পৌর শহরের নিউমার্কেটের ‘ফ্যাশন রুম’ নামের একটি কাপড়ের দোকানের মালিক। তিনি ভৈরব বাজার টিনপট্টি এলাকার চন্দন সাহার ছেলে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৪) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের আলগী বাজার মাজেরচর এলাকার মৃত রবিউল্লাহ মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর বয়স ৩৭ বছর। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক সূত্রে নার্গিস আক্তারের সঙ্গে সুমন সাহার পরিচয় হয়। নার্গিস নিয়মিত নগদ ও বাকিতে তার কাছ থেকে কাপড় কিনতেন। একপর্যায়ে তার কাছে সুমনের ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা হয়। ওই টাকা পরিশোধের কথা বলে দুই বছর আগে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল নার্গিস তার স্বামীর সহযোগিতায় সুমনকে নরসিংদীতে ডেকে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সুমনের পকেটে থাকা ৫ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৩০ হাজার ও পরে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে সুমনের পরিবারের কাছে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সুমনের কাছ থেকে জোরপূর্বক পূবালী ব্যাংকের একটি চেক নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই চেকের সূত্র ধরে এক কোটি ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে নরসিংদীর আদালতে মামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
ভুক্তভোগী সুমন সাহা অভিযোগ করেন, তাকে জড়িয়ে মিথ্যা পরকীয়ার ঘটনা সাজানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ছাড়া তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সুমন জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি দুই বছর আগে আদালতে মামলা করেন।
তার দাবি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ এবং অপহরণসংক্রান্ত ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মামুনের স্ত্রী জামিন পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানান সুমন।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কাপড় ব্যবসায়ী সুমন সাহাকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমল গ্রহণকারী সিআর-২ নম্বর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী সুমন সাহা ভৈরব পৌর শহরের নিউমার্কেটের ‘ফ্যাশন রুম’ নামের একটি কাপড়ের দোকানের মালিক। তিনি ভৈরব বাজার টিনপট্টি এলাকার চন্দন সাহার ছেলে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৪) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের আলগী বাজার মাজেরচর এলাকার মৃত রবিউল্লাহ মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর বয়স ৩৭ বছর। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক সূত্রে নার্গিস আক্তারের সঙ্গে সুমন সাহার পরিচয় হয়। নার্গিস নিয়মিত নগদ ও বাকিতে তার কাছ থেকে কাপড় কিনতেন। একপর্যায়ে তার কাছে সুমনের ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা হয়। ওই টাকা পরিশোধের কথা বলে দুই বছর আগে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল নার্গিস তার স্বামীর সহযোগিতায় সুমনকে নরসিংদীতে ডেকে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সুমনের পকেটে থাকা ৫ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৩০ হাজার ও পরে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে সুমনের পরিবারের কাছে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সুমনের কাছ থেকে জোরপূর্বক পূবালী ব্যাংকের একটি চেক নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই চেকের সূত্র ধরে এক কোটি ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে নরসিংদীর আদালতে মামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার অনুর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
ভুক্তভোগী সুমন সাহা অভিযোগ করেন, তাকে জড়িয়ে মিথ্যা পরকীয়ার ঘটনা সাজানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ছাড়া তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সুমন জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি দুই বছর আগে আদালতে মামলা করেন।
তার দাবি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ এবং অপহরণসংক্রান্ত ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মামুনের স্ত্রী জামিন পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ন্যায়বিচার চাইবেন বলে জানান সুমন।

আপনার মতামত লিখুন