লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে কীটনাশকের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি

কীটনাশক বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ, বাদ পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা!

কীটনাশক বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ, বাদ পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা!


চাঁদপুরের হাইমচরে সয়াবিন চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রশিক্ষণে লাইসেন্সধারী সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) হাইমচর উপজেলা পরিষদের পদ্মাজল অডিটোরিয়াম/কনফারেন্স কক্ষে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত লাইসেন্সধারী বিক্রেতাদের অগ্রাধিকার না দিয়ে বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তাঁরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম কিংবা অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব, উপস্থিত কর্মীরা এমনটাই দাবি করেন। 

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যত্রতত্র ও অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রাণিসম্পদ, মাছ, বিভিন্ন জলজ প্রাণী এবং মানবজীবনের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি উপস্থিত কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাকিল খন্দকার কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নবায়ন এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে কীটনাশক ব্যবহার ও বিপণনের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ মো. ইয়াকুব আলী, প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি’ প্রকল্পের উদ্যোগে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কৃষক রাসেল, মিজানুর সহ আরো অনেকের মতে, কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। কারণ, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সঠিক মাত্রা নির্ধারণ এবং ফসলের ক্ষতি এড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কৃষকদেরই নিতে হয়।

তাঁদের দাবি, শুধু বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন, যদি কৃষকেরা নিরাপদ ও কার্যকর বালাইনাশক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না পান। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া কৃষি উপকরণের গুণগত মান, অনুমোদন, মেয়াদ এবং সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

কৃষি উপকরণ বিপণন ও বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিমালা এবং লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রশিক্ষণার্থীদের যোগ্যতা ও তালিকা যাচাই, প্রশিক্ষণের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিশেষ করে বালাইনাশক আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে বালাইনাশকের নিবন্ধন, বিপণন ও ব্যবহারসংক্রান্ত প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। এতে একদিকে কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশিক্ষণটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


কীটনাশক বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ, বাদ পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image



চাঁদপুরের হাইমচরে সয়াবিন চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রশিক্ষণে লাইসেন্সধারী সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) হাইমচর উপজেলা পরিষদের পদ্মাজল অডিটোরিয়াম/কনফারেন্স কক্ষে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত লাইসেন্সধারী বিক্রেতাদের অগ্রাধিকার না দিয়ে বহিরাগতদের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তাঁরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম কিংবা অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব, উপস্থিত কর্মীরা এমনটাই দাবি করেন। 

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যত্রতত্র ও অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রাণিসম্পদ, মাছ, বিভিন্ন জলজ প্রাণী এবং মানবজীবনের জন্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি উপস্থিত কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাকিল খন্দকার কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নবায়ন এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে কীটনাশক ব্যবহার ও বিপণনের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ মো. ইয়াকুব আলী, প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি’ প্রকল্পের উদ্যোগে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কৃষক রাসেল, মিজানুর সহ আরো অনেকের মতে, কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। কারণ, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সঠিক মাত্রা নির্ধারণ এবং ফসলের ক্ষতি এড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কৃষকদেরই নিতে হয়।

তাঁদের দাবি, শুধু বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন, যদি কৃষকেরা নিরাপদ ও কার্যকর বালাইনাশক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না পান। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া কৃষি উপকরণের গুণগত মান, অনুমোদন, মেয়াদ এবং সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

কৃষি উপকরণ বিপণন ও বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিমালা এবং লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রশিক্ষণার্থীদের যোগ্যতা ও তালিকা যাচাই, প্রশিক্ষণের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিশেষ করে বালাইনাশক আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে বালাইনাশকের নিবন্ধন, বিপণন ও ব্যবহারসংক্রান্ত প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। এতে একদিকে কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশিক্ষণটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।




প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি