ঢাকার ধামরাইয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, অবৈধ ইটভাটা, মাটি কাটা এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ধামরাই উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ, ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, ধামরাই পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান স্বপনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ধামরাইয়ে শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের জন্য সুন্দর, নিরাপদ ও স্বস্তিকর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন করতে গিয়ে যেন দেশের বা ধামরাইয়ের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সুন্দর, নিরাপদ ও স্বস্তিকর সমাজ গড়তে চাই। ধামরাইয়ে শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন চাই না। আমরা প্রকৃত উন্নয়ন করতে চাই। সেই উন্নয়ন যেন এই দেশের, এই ধামরাইয়ের কোনো ক্ষতি না করে।”
রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজনীতির ভূমিকা থাকা উচিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মাদক ও জুয়া প্রসঙ্গে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, এসব অপরাধকে শুধু নিজের পরিবার বা ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। সমাজের একটি অংশে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব অন্য পরিবারগুলোর ওপরও পড়ে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি বাড়িতে আগুন লাগলে আশপাশের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে মাদক ও জুয়ার বিস্তার শুরুতেই প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ ধামরাইয়ের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ইটভাটা, মাটি কাটা ও মাদককে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সুলতানা আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন টিম গঠনের উদ্যোগ থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের মধ্যে একটি মাদকবিরোধী কমিটি করা উচিত।”
সভায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার মতো পরিবেশ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় ধামরাইয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, অবৈধ ইটভাটা, মাটি কাটা এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ধামরাই উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ, ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, ধামরাই পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান স্বপনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ধামরাইয়ে শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের জন্য সুন্দর, নিরাপদ ও স্বস্তিকর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন করতে গিয়ে যেন দেশের বা ধামরাইয়ের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সুন্দর, নিরাপদ ও স্বস্তিকর সমাজ গড়তে চাই। ধামরাইয়ে শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন চাই না। আমরা প্রকৃত উন্নয়ন করতে চাই। সেই উন্নয়ন যেন এই দেশের, এই ধামরাইয়ের কোনো ক্ষতি না করে।”
রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজনীতির ভূমিকা থাকা উচিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মাদক ও জুয়া প্রসঙ্গে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, এসব অপরাধকে শুধু নিজের পরিবার বা ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। সমাজের একটি অংশে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব অন্য পরিবারগুলোর ওপরও পড়ে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি বাড়িতে আগুন লাগলে আশপাশের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে মাদক ও জুয়ার বিস্তার শুরুতেই প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ ধামরাইয়ের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ইটভাটা, মাটি কাটা ও মাদককে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সুলতানা আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন টিম গঠনের উদ্যোগ থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের মধ্যে একটি মাদকবিরোধী কমিটি করা উচিত।”
সভায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার মতো পরিবেশ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় ধামরাইয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন