লগইন
প্রাইম টিভি
প্রকাশ : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের রমরমা বাণিজ্য: সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের নীরবতার উৎস কোথায়?

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের রমরমা বাণিজ্য: সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের নীরবতার উৎস কোথায়?

নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যথাযথ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা ন্যূনতম চিকিৎসা মানদণ্ড না মেনেই যুগের পর যুগ ধরে চলছে এগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে এই অবৈধ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই যেসব প্রতিষ্ঠানে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ক্লিনিকেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র বা হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হলো:মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল (কে সি নাগ রোড) রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল (বঙ্গবন্ধু সড়ক)মিতু ক্লিনিক ,ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,মেডিকেল প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,সোহেল জেনারেল হাসপাতাল ,মেডিস্টার হাসপাতাল এন্ড রেনেসা ল্যাব

এসব প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কোনো কোয়ালিফাইড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমা নার্স নেই বললেই চলে। অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যার ফলে ভুল রিপোর্টের কারণে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ।

সিভিল সার্জনের নীরবতা: নেপথ্যের রহস্য কী?

বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর দেখভাল এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মূল দায়িত্ব জেলা সিভিল সার্জনের। বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ শাখাওয়াত হোসেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে শহরের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতার মূল রহস্য কোথায়?

সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই নীরবতা মোটেও আকস্মিক নয়। এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ:

১. মাসোহারা ও অনৈতিক লেনদেন: স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এসব অবৈধ ক্লিনিক মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট প্রতি মাসে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি বিশেষ চক্র ও তদারকি কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা অবৈধ সুবিধা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২. অভিযানের নামে লোকদেখানো নাটক: মাঝে মধ্যে লোকদেখানো দু-একটি অভিযান চালানো হলেও, বাস্তবে মূল অপরাধীদের স্পর্শ করা হয় না। অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

৩. প্রভাবশালী মহলের তদবির: অনেক ক্লিনিক মালিকেরই রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলেই ওপর মহল থেকে চাপ আসে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ঝুকিতে জনস্বাস্থ্য, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

লাইসেন্সবিহীন এসব তথাকথিত হাসপাতালে প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দালালের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরল-সোজা রোগীদের এই সমস্ত "কসাইখানায়" এনে পকেট কাটা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার নামে এমন প্রতারণা চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

জনসাধারণের দাবি, অবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একই সাথে, সিভিল সার্জন ডাঃ শাখাওয়াত হোসেনের এই নির্লিপ্ততার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উক্ত অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সিলগালা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের রমরমা বাণিজ্য: সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের নীরবতার উৎস কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যথাযথ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা ন্যূনতম চিকিৎসা মানদণ্ড না মেনেই যুগের পর যুগ ধরে চলছে এগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে এই অবৈধ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই যেসব প্রতিষ্ঠানে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ক্লিনিকেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র বা হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হলো:মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল (কে সি নাগ রোড) রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল (বঙ্গবন্ধু সড়ক)মিতু ক্লিনিক ,ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,মেডিকেল প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,সোহেল জেনারেল হাসপাতাল ,মেডিস্টার হাসপাতাল এন্ড রেনেসা ল্যাব

এসব প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কোনো কোয়ালিফাইড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমা নার্স নেই বললেই চলে। অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যার ফলে ভুল রিপোর্টের কারণে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ।

সিভিল সার্জনের নীরবতা: নেপথ্যের রহস্য কী?

বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর দেখভাল এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মূল দায়িত্ব জেলা সিভিল সার্জনের। বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ শাখাওয়াত হোসেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে শহরের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতার মূল রহস্য কোথায়?

সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই নীরবতা মোটেও আকস্মিক নয়। এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ:

১. মাসোহারা ও অনৈতিক লেনদেন: স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এসব অবৈধ ক্লিনিক মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট প্রতি মাসে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি বিশেষ চক্র ও তদারকি কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা বা অবৈধ সুবিধা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২. অভিযানের নামে লোকদেখানো নাটক: মাঝে মধ্যে লোকদেখানো দু-একটি অভিযান চালানো হলেও, বাস্তবে মূল অপরাধীদের স্পর্শ করা হয় না। অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

৩. প্রভাবশালী মহলের তদবির: অনেক ক্লিনিক মালিকেরই রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলেই ওপর মহল থেকে চাপ আসে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ঝুকিতে জনস্বাস্থ্য, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

লাইসেন্সবিহীন এসব তথাকথিত হাসপাতালে প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দালালের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরল-সোজা রোগীদের এই সমস্ত "কসাইখানায়" এনে পকেট কাটা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার নামে এমন প্রতারণা চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

জনসাধারণের দাবি, অবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একই সাথে, সিভিল সার্জন ডাঃ শাখাওয়াত হোসেনের এই নির্লিপ্ততার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উক্ত অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সিলগালা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি