লগইন
প্রাইম টিভি

চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বিজয়া দশমী উদযাপন, ডাকাতিয়ায় ২৫ প্রতিমা বিসর্জন

চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বিজয়া দশমী উদযাপন, ডাকাতিয়ায় ২৫ প্রতিমা বিসর্জন


শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর :

অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর ক্ষণে ভক্তদের চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল গভীর আবেগ আর কণ্ঠে ছিল আগামী বছর আবারও ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর চৌধুরীঘাটে একে একে ২৫টি প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেবী দুর্গার মর্ত্যধামে আগমনের পাঁচ দিনের উৎসব।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরের গুহবাড়ির পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একে একে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমাগুলো বিসর্জন ঘাটে পৌঁছালে সেখানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।


বিসর্জন অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে চৌধুরীঘাট এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বড় পর্দায় প্রতিমা প্রদর্শনের পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত তৎপরতায় অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জনের আয়োজন।

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সড়কে যানবাহন চলাচল ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একরামুল ছিদ্দিকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অজিত সাহা বলেন, দেবী দুর্গা টানা নয় দিন ও নয় রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে অত্যাচারী অসুররাজ মহিষাসুরকে বধ করে বিশ্বসংসারকে মুক্ত করেন। অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির এই বিজয়কে স্মরণ করেই বিজয়া দশমী নামের উৎপত্তি। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের বিজয়ের বার্তা বহন করে এ উৎসব।

চাঁদপুর মহিলা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শিপ্রা মজুমদার বলেন, বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিতে বিজয়া দশমী একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদের দিন। সকালে দশমীর পূজা শেষে দর্পণে দেবীর প্রতিবিম্ব দর্শনের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন দেওয়া হয়। পরে বিবাহিত নারীরা দেবীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে এবং ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে পরস্পরের সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বিকেল থেকে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিসর্জন শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার প্রতীকী বিদায় সম্পন্ন হয়।

চাঁদপুর জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব পার্থ গোপাল দাস বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের পর শুরু হয় শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, সমবয়সীরা কোলাকুলি করে এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করায়। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই এ রীতির মূল উদ্দেশ্য। বিজয়া দশমী মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, অন্যায় ও অধর্ম যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই জয় হয়।

চাঁদপুর জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক স্বাধীন দত্ত বলেন, বিজয়া দশমীকে অনেক স্থানে ‘দশেরা’ হিসেবেও পালন করা হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, এদিন শ্রী রামচন্দ্র রাবণকে বধ করে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করেন। এ কারণেও দিনটি অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা ভক্ত, পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিনামূল্যে বিস্কুট ও পানীয় বিতরণ করে সামাজিক সংগঠন ‘চাঁদের আলো’। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সংগঠনটির এ উদ্যোগে উপকৃত হন ঘাটে আসা অনেক মানুষ।

এদিকে বিসর্জন অনুষ্ঠানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল সাহা, পৌর পূজা পরিষদের সভাপতি নেপাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার জয়, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার এবং হিন্দু মহাজোটের উপদেষ্টা রতন দাসসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসর্জনের সময় নদীতে নৌকায় বসে ধর্মীয় পুস্তক পাঠ করেন জেলা শারদাঞ্জলী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস ও তাঁর মেয়ে উমা দাস। ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও ভক্তিময় পরিবেশে তাঁদের এ আয়োজন বিসর্জন অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ জানান, এ বছর চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৪১টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, কচুয়ায় ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, শাহরাস্তিতে ১৯টি এবং হাইমচরে ছয়টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন ছাড়াই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। পূজা উদযাপনে সহযোগিতার জন্য সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে বিসর্জনের বিষাদ ছাপিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেছে অসুরের ওপর দেবীর বিজয়ের চিরন্তন শিক্ষা—অন্যায়, অশুভ ও অন্ধকারের যতই দাপট থাকুক, শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির। আগামী শরতে আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বিজয়া দশমী উদযাপন, ডাকাতিয়ায় ২৫ প্রতিমা বিসর্জন

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর :

অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে চাঁদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর ক্ষণে ভক্তদের চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল গভীর আবেগ আর কণ্ঠে ছিল আগামী বছর আবারও ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর চৌধুরীঘাটে একে একে ২৫টি প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেবী দুর্গার মর্ত্যধামে আগমনের পাঁচ দিনের উৎসব।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরের গুহবাড়ির পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একে একে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমাগুলো বিসর্জন ঘাটে পৌঁছালে সেখানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।



বিসর্জন অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে চৌধুরীঘাট এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বড় পর্দায় প্রতিমা প্রদর্শনের পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত তৎপরতায় অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জনের আয়োজন।

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সড়কে যানবাহন চলাচল ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একরামুল ছিদ্দিকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অজিত সাহা বলেন, দেবী দুর্গা টানা নয় দিন ও নয় রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে অত্যাচারী অসুররাজ মহিষাসুরকে বধ করে বিশ্বসংসারকে মুক্ত করেন। অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির এই বিজয়কে স্মরণ করেই বিজয়া দশমী নামের উৎপত্তি। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের বিজয়ের বার্তা বহন করে এ উৎসব।

চাঁদপুর মহিলা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শিপ্রা মজুমদার বলেন, বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিতে বিজয়া দশমী একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদের দিন। সকালে দশমীর পূজা শেষে দর্পণে দেবীর প্রতিবিম্ব দর্শনের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন দেওয়া হয়। পরে বিবাহিত নারীরা দেবীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে এবং ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে পরস্পরের সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বিকেল থেকে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিসর্জন শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার প্রতীকী বিদায় সম্পন্ন হয়।

চাঁদপুর জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব পার্থ গোপাল দাস বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের পর শুরু হয় শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, সমবয়সীরা কোলাকুলি করে এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করায়। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই এ রীতির মূল উদ্দেশ্য। বিজয়া দশমী মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, অন্যায় ও অধর্ম যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই জয় হয়।

চাঁদপুর জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক স্বাধীন দত্ত বলেন, বিজয়া দশমীকে অনেক স্থানে ‘দশেরা’ হিসেবেও পালন করা হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, এদিন শ্রী রামচন্দ্র রাবণকে বধ করে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করেন। এ কারণেও দিনটি অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা ভক্ত, পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিনামূল্যে বিস্কুট ও পানীয় বিতরণ করে সামাজিক সংগঠন ‘চাঁদের আলো’। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সংগঠনটির এ উদ্যোগে উপকৃত হন ঘাটে আসা অনেক মানুষ।

এদিকে বিসর্জন অনুষ্ঠানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল সাহা, পৌর পূজা পরিষদের সভাপতি নেপাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার জয়, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার এবং হিন্দু মহাজোটের উপদেষ্টা রতন দাসসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসর্জনের সময় নদীতে নৌকায় বসে ধর্মীয় পুস্তক পাঠ করেন জেলা শারদাঞ্জলী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস ও তাঁর মেয়ে উমা দাস। ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও ভক্তিময় পরিবেশে তাঁদের এ আয়োজন বিসর্জন অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ জানান, এ বছর চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৪১টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, কচুয়ায় ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, শাহরাস্তিতে ১৯টি এবং হাইমচরে ছয়টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন ছাড়াই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। পূজা উদযাপনে সহযোগিতার জন্য সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে বিসর্জনের বিষাদ ছাপিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেছে অসুরের ওপর দেবীর বিজয়ের চিরন্তন শিক্ষা—অন্যায়, অশুভ ও অন্ধকারের যতই দাপট থাকুক, শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির। আগামী শরতে আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি