বিপ্লব মল্লিক মোংলা, বাগেরহাট
মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইতালি নাগরিক কবি—সাহিত্যিক ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
২০ মে মঙ্গলবার সকালে মোংলার শেলাবুনিয়াতে র্যালি, স্মরণ সভা ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আয়োজনে এসব কর্মসুচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাধি চত্বরে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’র সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সেন্ট পল্স ধর্ম পল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল।
স্মরণ সভায় অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদার, মনীন্দ্রনাথ হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক চিরঞ্জিত সরকার, সেবা সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মিনা হালদার, উদয়ন সমাজ সংঘ’র জানে আলম বাবু, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আল মামুন, সঞ্জয় সরদার, হিউবার্ট সরদার, পলাশ হালদার প্রমূখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন ফাদার মারিনো রিগন বাংলার শিল্প—সাহিত্য—সংস্কৃতির প্রেমে পড়েছিলেন।
তার মস্তকে ছিলো রবীন্দ্র আর অন্তরে ছিলো লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং লালনের সাড়ে তিনশো গান ফাদার রিগন ইতালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগন অসামান্য অবদান রেখেছেন।
স্মরণ সভার পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফাদার রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে তা হলোঃ সেন্ট পল্স ধর্মপল্লী, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, খ্রিষ্টিয়ান ঐক্য পরিষদ, সেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ র্যালি বের করা হয়।
উল্লেখ্য ফাদার মারিনো রিগন মোংলা অঞ্চলে সেন্ট পল্স স্কুলসহ ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স হাসপাতাল, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পদক লাভ করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি যাজকীয় দায়িত্ব বাইরে শিক্ষা, সমাজ উন্নয়নসহ শিল্প—সাহিত্য—সংস্কৃতির সেবা করেন। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাদার মারিনো রিগন ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ফাদার মারিনো রিগনের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ি মৃত্যুর এক বছর পরে ইতালি থেকে বাংলাদেশ সরকার মরদেহ নিয়ে আসে এবং মোংলার শেলাবুনিয়াতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
বিপ্লব মল্লিক মোংলা, বাগেরহাট
মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইতালি নাগরিক কবি—সাহিত্যিক ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
২০ মে মঙ্গলবার সকালে মোংলার শেলাবুনিয়াতে র্যালি, স্মরণ সভা ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আয়োজনে এসব কর্মসুচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাধি চত্বরে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’র সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সেন্ট পল্স ধর্ম পল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল।
স্মরণ সভায় অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদার, মনীন্দ্রনাথ হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক চিরঞ্জিত সরকার, সেবা সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মিনা হালদার, উদয়ন সমাজ সংঘ’র জানে আলম বাবু, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আল মামুন, সঞ্জয় সরদার, হিউবার্ট সরদার, পলাশ হালদার প্রমূখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন ফাদার মারিনো রিগন বাংলার শিল্প—সাহিত্য—সংস্কৃতির প্রেমে পড়েছিলেন।
তার মস্তকে ছিলো রবীন্দ্র আর অন্তরে ছিলো লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং লালনের সাড়ে তিনশো গান ফাদার রিগন ইতালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগন অসামান্য অবদান রেখেছেন।
স্মরণ সভার পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফাদার রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে তা হলোঃ সেন্ট পল্স ধর্মপল্লী, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, খ্রিষ্টিয়ান ঐক্য পরিষদ, সেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ র্যালি বের করা হয়।
উল্লেখ্য ফাদার মারিনো রিগন মোংলা অঞ্চলে সেন্ট পল্স স্কুলসহ ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স হাসপাতাল, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পদক লাভ করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি যাজকীয় দায়িত্ব বাইরে শিক্ষা, সমাজ উন্নয়নসহ শিল্প—সাহিত্য—সংস্কৃতির সেবা করেন। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাদার মারিনো রিগন ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ফাদার মারিনো রিগনের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ি মৃত্যুর এক বছর পরে ইতালি থেকে বাংলাদেশ সরকার মরদেহ নিয়ে আসে এবং মোংলার শেলাবুনিয়াতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।

আপনার মতামত লিখুন