আনিসুল ইসলাম
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিচালিত এক সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (৪৪) এবং গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার মৃত কানা হামেদের ছেলে ও স্থানীয় বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আপাতত তাদের ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগে চূড়ান্ত মামলা দায়ের করা হবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩৮) ও প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান উভয়েই উত্তর খাইলকুর এলাকায় দ্বিতীয় আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা কক্ষে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশ সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরবর্তীতে বিয়ের কথা বললে আনিছুর অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাতে আনিছুর ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে ধর্ষকের পক্ষ নেন। ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। হামলায় তার মুখ, ঠোঁট, পিঠ, কোমর ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়। ঘটনার পর আইনি আশ্রয়ের চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী রবিবার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আনিসুল ইসলাম
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিচালিত এক সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (৪৪) এবং গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার মৃত কানা হামেদের ছেলে ও স্থানীয় বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আপাতত তাদের ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগে চূড়ান্ত মামলা দায়ের করা হবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩৮) ও প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান উভয়েই উত্তর খাইলকুর এলাকায় দ্বিতীয় আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা কক্ষে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশ সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরবর্তীতে বিয়ের কথা বললে আনিছুর অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাতে আনিছুর ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে ধর্ষকের পক্ষ নেন। ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। হামলায় তার মুখ, ঠোঁট, পিঠ, কোমর ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়। ঘটনার পর আইনি আশ্রয়ের চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী রবিবার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে।

আপনার মতামত লিখুন