গোপাল মালাকার,সাভার।
সাভারের কয়েকটি গ্রামে সড়কজুড়ে বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা লেগে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পোশাক শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের জনজীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে। ইউনিয়ন প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কেই বালুর বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। এতেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় প্রশাসন বলছেন সরজমিনে পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর থেকে মুশুরীখোলাগামী সড়কের ডান পাশে মেইটকা গ্রাম। এলাকার একমাত্র সংযোগ সড়কটিতে বছরের প্রায় অধিকাংশ সময়ই জমে থাকে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানি উপচে সড়কে চলে আসে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকে বাসাবাড়ির ময়লা পানি ফেলছেন সরাসরি রাস্তায়।
হাঁটার মতো পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে নোংরা পানি টপকেই মূল সড়কে উঠতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এমনকি মেইটকা সড়কটি পাশের কবরস্থান ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র প্রসস্ত রাস্তা হওয়ায় লাশ নিয়ে কবরস্থানে যেতেও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে সড়কে বালুর বাঁধ নির্মাণ করেছেন।
বাঁধ নির্মানেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভুক্তভোগীরা জানান মূলসড়কের পাশে কয়েকটি বাড়ির পর বাধ নির্মাণের ফলে ওই পরিবারগুলো পড়েছে চড়ম বিপাকে।ফলে পুকুরের পানি উপচে বাঁধের সামনের বাড়ি গুলো প্লাবিত করছে ।বাঁধ নির্মাণে কিছু মানুষ আপাত দৃষ্টিতে আংশিক সুবিধা ভোগ করতে পারলেও সামগ্রিক ভাবে সড়ক উচু এবং স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হলে এ ভোগান্তি নির্মূল করা সম্ভব না বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
মেইটকা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান এখানে বৃষ্টি না হলেও পানি জমে থাকে। বাসাবাড়ির ড্রেনের কোনো জায়গা নাই, ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসে। পঁচা পানির ওপর দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। লাশ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার উপায় নাই। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই বালু দিয়ে বাঁধ দিছি।"
একই চিত্র দেখা গেছে পাশের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাটিতেও। গুলশান মোড় থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও লেখক ওহাব ওহী জানান গুলশান মোড় থেকে শ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের।
সাড়া বছর এই রাস্তাটি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না ফলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সংকট দেখা দিচ্ছে এছাড়াও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তিনি আরে জানান ঢাকা-২ আসনের স্থানীয় এমপি আমানউল্লাহ আমান নির্বাচনের পূর্বে এখানে এসে আমাদের আশ্বস্ত করে গিয়েছে, তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের এই সড়কের জন্য স্থায়ী একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দিবেন।
আমরা তার ইসতেহার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি।
তিনি এলালাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই সড়কটির পাশে ড্রেন নির্মাণের দাবী জানান।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নটি শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় ফসলি জমি কমে গিয়ে দ্রুত গড়ে উঠেছে বসতি। তবে পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, জলাবদ্ধতার মতো গুরুতর বিষয়ে এখনো কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আনিসুর রহমান, তিনি জানান,
" বিষয়টি আমরা সরজমিনে পরিদর্শন করব এবং প্রাপ্যতা ও তহবিল সংস্থাপন সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
সড়কগুলো উঁচু করে একটি পরিকল্পিত ও স্থায়ী ড্রেনেজ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান মেইটকা ও শ্যামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপাল মালাকার,সাভার।
সাভারের কয়েকটি গ্রামে সড়কজুড়ে বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা লেগে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পোশাক শ্রমিক ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের জনজীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে। ইউনিয়ন প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কেই বালুর বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। এতেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় প্রশাসন বলছেন সরজমিনে পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর থেকে মুশুরীখোলাগামী সড়কের ডান পাশে মেইটকা গ্রাম। এলাকার একমাত্র সংযোগ সড়কটিতে বছরের প্রায় অধিকাংশ সময়ই জমে থাকে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানি উপচে সড়কে চলে আসে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকে বাসাবাড়ির ময়লা পানি ফেলছেন সরাসরি রাস্তায়।
হাঁটার মতো পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে নোংরা পানি টপকেই মূল সড়কে উঠতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এমনকি মেইটকা সড়কটি পাশের কবরস্থান ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র প্রসস্ত রাস্তা হওয়ায় লাশ নিয়ে কবরস্থানে যেতেও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে সড়কে বালুর বাঁধ নির্মাণ করেছেন।
বাঁধ নির্মানেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভুক্তভোগীরা জানান মূলসড়কের পাশে কয়েকটি বাড়ির পর বাধ নির্মাণের ফলে ওই পরিবারগুলো পড়েছে চড়ম বিপাকে।ফলে পুকুরের পানি উপচে বাঁধের সামনের বাড়ি গুলো প্লাবিত করছে ।বাঁধ নির্মাণে কিছু মানুষ আপাত দৃষ্টিতে আংশিক সুবিধা ভোগ করতে পারলেও সামগ্রিক ভাবে সড়ক উচু এবং স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হলে এ ভোগান্তি নির্মূল করা সম্ভব না বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
মেইটকা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান এখানে বৃষ্টি না হলেও পানি জমে থাকে। বাসাবাড়ির ড্রেনের কোনো জায়গা নাই, ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসে। পঁচা পানির ওপর দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। লাশ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার উপায় নাই। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই বালু দিয়ে বাঁধ দিছি।"
একই চিত্র দেখা গেছে পাশের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাটিতেও। গুলশান মোড় থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও লেখক ওহাব ওহী জানান গুলশান মোড় থেকে শ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের।
সাড়া বছর এই রাস্তাটি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না ফলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সংকট দেখা দিচ্ছে এছাড়াও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তিনি আরে জানান ঢাকা-২ আসনের স্থানীয় এমপি আমানউল্লাহ আমান নির্বাচনের পূর্বে এখানে এসে আমাদের আশ্বস্ত করে গিয়েছে, তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের এই সড়কের জন্য স্থায়ী একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দিবেন।
আমরা তার ইসতেহার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি।
তিনি এলালাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই সড়কটির পাশে ড্রেন নির্মাণের দাবী জানান।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নটি শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় ফসলি জমি কমে গিয়ে দ্রুত গড়ে উঠেছে বসতি। তবে পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, জলাবদ্ধতার মতো গুরুতর বিষয়ে এখনো কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আনিসুর রহমান, তিনি জানান,
" বিষয়টি আমরা সরজমিনে পরিদর্শন করব এবং প্রাপ্যতা ও তহবিল সংস্থাপন সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
সড়কগুলো উঁচু করে একটি পরিকল্পিত ও স্থায়ী ড্রেনেজ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান মেইটকা ও শ্যামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন