লগইন
প্রাইম টিভি
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সুন্দরবনে এসআরবি-৬ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

সুন্দরবনে এসআরবি-৬ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষিকা নিহত, স্বামী গুরুতর আহত

সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষিকা নিহত, স্বামী গুরুতর আহত

নওগাঁর তিলকপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নওগাঁর তিলকপুরে যুব সমাজের উদ্যোগে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

কেরানীগঞ্জে চারটি স্থানে মোবাইল কোর্ট, মাদকসহ আটক ৩ জনের কারাদণ্ড

কেরানীগঞ্জে চারটি স্থানে মোবাইল কোর্ট, মাদকসহ আটক ৩ জনের কারাদণ্ড

হ্যালো ডিসি অ্যাপে অভিযোগ, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে মোবাইল কোর্টে ৪ জনের কারাদণ্ড

হ্যালো ডিসি অ্যাপে অভিযোগ, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে মোবাইল কোর্টে ৪ জনের কারাদণ্ড

সাগরে মাছ শিকার করলেও দিতে হবে চাঁদা

সাগরে মাছ শিকার করলেও দিতে হবে চাঁদা


‎মাহমুদুল হাসান,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

‎রাঙ্গাবালীতে সমুদ্রের মাঝে জেগেওঠা চরহেয়ার ও  আগার চর নামের ডুবোচরে ইলিশসহ নানান প্রজাতির মাছ শিকার হলে দিতে হবে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। আর সেই টাকা না দিলে জুটছে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে চাঁদাবাজি ও চর দখলের অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও একই অভিযোগ এখন উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজালাল মীরের বিরুদ্ধে। 

‎অভিযুক্ত নেতার নাম মো. শাহজালাল মীর, তিনি রাঙ্গাবালী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বৈধভাবে ইজারা নেওয়া চরে ইলিশ মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই জেলেদের পক্ষে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আঃ আজিজ মাহমুদ। শাহজালাল মীর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ রহমান ফরাজীর অনুসারী।

‎বন বিভাগের সূত্র মতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ থেকে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে চর হেয়ার ও চর আগারা এলাকাটি এক বছরের জন্য মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইজারা নেন আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী। ইজারার মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

‎জেলে হাসান গাজী বলেন, কাগজপত্রে দেখা গেছে চর কলাগাছিয়া মাছ ধরার অনুমতি পেয়েছেন আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী। আমরা তাদের অধীনে কর্মরত জেলে। মাছ ধরতে গেলে শাহজালাল মীর বাধা দিয়ে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাঁর দাবি, ওই চরে শাহজালাল মীরের একটি "গুপ্ত বাহিনী" সক্রিয় রয়েছে।

‎একই অভিযোগ করেন আরেক জেলে রাজীব খান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শাহজালাল মীর একইভাবে চর দখলে রাখতেন, এখনো অবৈধভাবে সেই দখলিস্বত্ব বজায় রাখতে চাইছেন। তাঁর নির্যাতনে জেলেরা অতিষ্ঠ।

‎মৎস্য ব্যবসায়ী আঃ মান্নান ঢালী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বৈধভাবে চর হেয়ার ও চর আগারা ইজারা নেওয়ার পরও শাহজালাল মীর ও তাঁর লোকজন জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন এবং ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় জেলেদের মারধর করে চর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে।

‎আঃ মান্নান ঢালী আরও বলেন,  এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একই চর তিনি ইজারা নিয়েছিলেন। তখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলেদের মারধর করে চর দখলে নেন শাহজালাল মীর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও 'সাগর ইজারা দিয়েছেন এমপি' শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল, যার নেপথ্যেও শাহজালাল মীর ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এলাকায় 'সাগরের সন্ত্রাস' নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে টাকা না দিয়ে সাগর বা নদীতে জাল ফেলতে পারেন না জেলেরা বলেও অভিযোগ তাঁর।

‎থানায় লিখিত অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আঃ আজিজ মাহমুদ বলেন, আমাদের জেলেরা ইজারা নেয়া চরে মাছ ধরতে গেলে তাঁদেরকে মারধর করে চর থেকে তুলে দেয়া হয়।  এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগকারীর দাবি, পুলিশ একাধিকবার ডেকে পাঠালেও অভিযুক্তদের থানায় হাজির করাতে ব্যর্থ হয়েছে। চাঁদামুক্ত, মারধর ও দখল-বাণিজ্যমুক্ত পরিবেশে মাছ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

‎অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল মীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি টাকা দিয়ে ওই চরে মাছ ধরতেন, এখনো একইভাবে মাছ ধরছেন। তিনি স্বীকার করেন, এ বছর আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী চরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র পেয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তাঁকে চরে মাছ ধরতে বলেছেন এবং তাঁকে 'অনুমতিপত্র' করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি মারধর কিংবা চাঁদা চেয়েছেন এমনটি সত্য নয়।

‎বিএনপি নেতা ও তাঁর অনুসারী চর দখলের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ রহমান ফরাজীকে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। পরে তিনি বলেন, চর নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।

‎রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিবাদীকে একাধিকবার থানায় ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি।

‎চরমোন্তাজ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে যাঁরা চরে মাছ ধরার অনুমতি পেয়েছেন, কেবল তাঁরাই সেখানে মাছ ধরার অধিকারী।

‎

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


সাগরে মাছ শিকার করলেও দিতে হবে চাঁদা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image


‎মাহমুদুল হাসান,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

‎রাঙ্গাবালীতে সমুদ্রের মাঝে জেগেওঠা চরহেয়ার ও  আগার চর নামের ডুবোচরে ইলিশসহ নানান প্রজাতির মাছ শিকার হলে দিতে হবে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। আর সেই টাকা না দিলে জুটছে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে চাঁদাবাজি ও চর দখলের অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও একই অভিযোগ এখন উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজালাল মীরের বিরুদ্ধে। 

‎অভিযুক্ত নেতার নাম মো. শাহজালাল মীর, তিনি রাঙ্গাবালী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বৈধভাবে ইজারা নেওয়া চরে ইলিশ মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই জেলেদের পক্ষে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আঃ আজিজ মাহমুদ। শাহজালাল মীর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ রহমান ফরাজীর অনুসারী।

‎বন বিভাগের সূত্র মতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ থেকে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে চর হেয়ার ও চর আগারা এলাকাটি এক বছরের জন্য মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইজারা নেন আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী। ইজারার মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

‎জেলে হাসান গাজী বলেন, কাগজপত্রে দেখা গেছে চর কলাগাছিয়া মাছ ধরার অনুমতি পেয়েছেন আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী। আমরা তাদের অধীনে কর্মরত জেলে। মাছ ধরতে গেলে শাহজালাল মীর বাধা দিয়ে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাঁর দাবি, ওই চরে শাহজালাল মীরের একটি "গুপ্ত বাহিনী" সক্রিয় রয়েছে।

‎একই অভিযোগ করেন আরেক জেলে রাজীব খান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শাহজালাল মীর একইভাবে চর দখলে রাখতেন, এখনো অবৈধভাবে সেই দখলিস্বত্ব বজায় রাখতে চাইছেন। তাঁর নির্যাতনে জেলেরা অতিষ্ঠ।

‎মৎস্য ব্যবসায়ী আঃ মান্নান ঢালী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বৈধভাবে চর হেয়ার ও চর আগারা ইজারা নেওয়ার পরও শাহজালাল মীর ও তাঁর লোকজন জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন এবং ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় জেলেদের মারধর করে চর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে।

‎আঃ মান্নান ঢালী আরও বলেন,  এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একই চর তিনি ইজারা নিয়েছিলেন। তখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলেদের মারধর করে চর দখলে নেন শাহজালাল মীর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও 'সাগর ইজারা দিয়েছেন এমপি' শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল, যার নেপথ্যেও শাহজালাল মীর ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এলাকায় 'সাগরের সন্ত্রাস' নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে টাকা না দিয়ে সাগর বা নদীতে জাল ফেলতে পারেন না জেলেরা বলেও অভিযোগ তাঁর।

‎থানায় লিখিত অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আঃ আজিজ মাহমুদ বলেন, আমাদের জেলেরা ইজারা নেয়া চরে মাছ ধরতে গেলে তাঁদেরকে মারধর করে চর থেকে তুলে দেয়া হয়।  এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগকারীর দাবি, পুলিশ একাধিকবার ডেকে পাঠালেও অভিযুক্তদের থানায় হাজির করাতে ব্যর্থ হয়েছে। চাঁদামুক্ত, মারধর ও দখল-বাণিজ্যমুক্ত পরিবেশে মাছ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

‎অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল মীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি টাকা দিয়ে ওই চরে মাছ ধরতেন, এখনো একইভাবে মাছ ধরছেন। তিনি স্বীকার করেন, এ বছর আঃ আজিজ মাহমুদ ও আঃ মান্নান ঢালী চরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র পেয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তাঁকে চরে মাছ ধরতে বলেছেন এবং তাঁকে 'অনুমতিপত্র' করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি মারধর কিংবা চাঁদা চেয়েছেন এমনটি সত্য নয়।

‎বিএনপি নেতা ও তাঁর অনুসারী চর দখলের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ রহমান ফরাজীকে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। পরে তিনি বলেন, চর নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।

‎রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিবাদীকে একাধিকবার থানায় ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি।

‎চরমোন্তাজ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে যাঁরা চরে মাছ ধরার অনুমতি পেয়েছেন, কেবল তাঁরাই সেখানে মাছ ধরার অধিকারী।

‎


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি