আইন পেশায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সিদ্ধান্ত বার কাউন্সিলের, কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে
আইন পেশার মানোন্নয়ন, মর্যাদা রক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘কনভোকেশন অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন: অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই উদ্যোগের কথা জানান।আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “কেউ মনে করেন অবসরের পর একটা ওকালতির লাইসেন্স নিয়ে শেষ জীবনে ওকালতি করে খাই... ওই পথ বন্ধের জন্য একটা উদ্যোগ নিতে আমরা বলেছি। যারা আইনজীবী হবেন, ৩৫ বছর পর গিয়ে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ। অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা এমন একটা জায়গায় আনতে চাচ্ছি।”ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এসে যে পরিশ্রম করছেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত অর্জিত সেই অভিজ্ঞতাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষায় রূপ নেবে এবং ভবিষ্যৎ পথ চলায় গাইড করবে।অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বয়সসীমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৯ আগস্ট বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি আপিল বিভাগের এ-সংক্রান্ত রায়ও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "১৫ জন সদস্যের সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আইনজীবী পেশার মর্যাদা ও পেশাগত মান উন্নত করতে এবং ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মের জন্য পেশাটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্মত করে তুলতে নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। দীর্ঘ আলোচনা শেষে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে আইন পেশায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেন।" তবে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বরং ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের পরিচালক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী এবং ইউএনডিপির সিনিয়র উপদেষ্টা রোমানা সোয়াইগার।