নওগাঁর মান্দায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে ভিডিও কলে অশ্লীল হতে বাধ্য করে সেই ভিডিও রেকর্ড করা এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে এক প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মান্দা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. কালু মিয়া বেপারী (৪১)। তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার মান্দারতলা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মান্দা থানার মামলা নম্বর- ৭, তারিখ: ০৩/১১/২০২৬ ইংরেজি। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ২৫(২) ধারা (সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারা আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামী মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। মালয়েশিয়ায় একই কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে ধৃত আসামি কালু মিয়ার সাথে বাদীর স্বামীর পরিচয় হয়। সেই সুবাদে প্রায় এক বছর আগে আসামি তার পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে বাদীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়িতে আসা-যাওয়ার একপর্যায়ে তিনি বাদীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা ভিডিও কলে কথা বলা শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামি কালু মিয়া ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ভিডিও কলে অশ্লীলভাবে কথা বলার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করতেন। বাদী রাজি না হলে বিদেশে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হতো। এই প্রাণনাশের হুমকিতে ভয় পেয়ে বাদী বাধ্য হয়ে ভিডিও কলে কথা বললে আসামি গোপনে সেই ভিডিও কল রেকর্ড করে রাখেন।
পরবর্তীতে ওই রেকর্ডকৃত অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে আসামির পক্ষ থেকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাদী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি বাদীর আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অশ্লীল ভিডিও ও ছবিগুলো ভাইরাল করে দেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মান্দা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মান্দা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে পুলিশ।
মান্দা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামীকাল তাকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
নওগাঁর মান্দায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে ভিডিও কলে অশ্লীল হতে বাধ্য করে সেই ভিডিও রেকর্ড করা এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে এক প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মান্দা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. কালু মিয়া বেপারী (৪১)। তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার মান্দারতলা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মান্দা থানার মামলা নম্বর- ৭, তারিখ: ০৩/১১/২০২৬ ইংরেজি। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ২৫(২) ধারা (সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারা আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামী মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। মালয়েশিয়ায় একই কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে ধৃত আসামি কালু মিয়ার সাথে বাদীর স্বামীর পরিচয় হয়। সেই সুবাদে প্রায় এক বছর আগে আসামি তার পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে বাদীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়িতে আসা-যাওয়ার একপর্যায়ে তিনি বাদীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা ভিডিও কলে কথা বলা শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামি কালু মিয়া ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ভিডিও কলে অশ্লীলভাবে কথা বলার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করতেন। বাদী রাজি না হলে বিদেশে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হতো। এই প্রাণনাশের হুমকিতে ভয় পেয়ে বাদী বাধ্য হয়ে ভিডিও কলে কথা বললে আসামি গোপনে সেই ভিডিও কল রেকর্ড করে রাখেন।
পরবর্তীতে ওই রেকর্ডকৃত অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে আসামির পক্ষ থেকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাদী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি বাদীর আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অশ্লীল ভিডিও ও ছবিগুলো ভাইরাল করে দেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মান্দা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মান্দা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে পুলিশ।
মান্দা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামীকাল তাকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন