দুই মামলায় ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
মাগুরায় চাঞ্চল্যকর ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি এবং পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পৃথক দুই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের মধ্যে মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উভয় মামলার সঙ্গে জড়িত গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় মজিবর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়। মামলা নং-৬৩। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন—মোঃ জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মোঃ ফরিদ মন্ডল, মোঃ মিল্টন মোল্যা, মারুফা আক্তার, মোঃ গোলাম জাহিদ ও মোঃ মারুফ হোসেন।
তাঁদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার ব্র্যান্ডের দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিলভার রঙের টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে সাকের হোসেন (৩৬) নামের এক যুবককে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলা নং-৪৯।
এ হত্যা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মোঃ মারুফ হোসেন, মোঃ গোলাম জাহিদ ও বশির আলী।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির বুলেট ও খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি স্বর্ণের বার, যার ওজন ৫১ ভরি ৬০৫.৬৯ গ্রাম।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ ডাকাতি ও সাকের হোসেন হত্যা—দুই মামলায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬.৪৬ গ্রাম।
পুলিশ আরও জানায়, উভয় মামলায় গ্রেপ্তার মোঃ গোলাম জাহিদ (৪৫) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যসহ তদন্তের বিভিন্ন সূত্র ধরে দুই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দুই মামলায় ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
মাগুরায় চাঞ্চল্যকর ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি এবং পৌর যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পৃথক দুই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের মধ্যে মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উভয় মামলার সঙ্গে জড়িত গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় মজিবর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়। মামলা নং-৬৩। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন—মোঃ জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মোঃ ফরিদ মন্ডল, মোঃ মিল্টন মোল্যা, মারুফা আক্তার, মোঃ গোলাম জাহিদ ও মোঃ মারুফ হোসেন।
তাঁদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার ব্র্যান্ডের দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিলভার রঙের টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে সাকের হোসেন (৩৬) নামের এক যুবককে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলা নং-৪৯।
এ হত্যা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মোঃ মারুফ হোসেন, মোঃ গোলাম জাহিদ ও বশির আলী।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির বুলেট ও খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি স্বর্ণের বার, যার ওজন ৫১ ভরি ৬০৫.৬৯ গ্রাম।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ ডাকাতি ও সাকের হোসেন হত্যা—দুই মামলায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬.৪৬ গ্রাম।
পুলিশ আরও জানায়, উভয় মামলায় গ্রেপ্তার মোঃ গোলাম জাহিদ (৪৫) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যসহ তদন্তের বিভিন্ন সূত্র ধরে দুই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন