মোঃ ফরিদ উদ্দীন
বিক্ষুব্ধ জনতার বাসে আগুন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলা, মহাসড়কে ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও শিশু কন্যার করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাডে ৭টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৌলভীর দোকানের দক্ষিণ পাশে ‘ডিবিএম’ ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কালিয়াইশ মলেয়াবাদ এলাকার আবদুল ছাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন ও তার শিশুকন্যা ওয়াসিফা। দুর্ঘটনায় নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী রেশমি আকতার (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অন্য সদস্যরা হলেন— একই এলাকার ফরহাদের ছেলে যুবান (৮), ফরহাদ (৩২), এরফান উদ্দীন (৩০), কালিয়াইশ মীরনগর এলাকার বকুল আক্তার (৩৫) ও তার ছেলে।
কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী একই পরিবারের বাবা-মেয়ে নিহত হওয়া ও অন্য সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা:
প্রত্যক্ষদর্শী মোক্তার আহমদ জানান, মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ডিবিএম ব্রিক ফিল্ডের সামনের ব্রিজে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির মিনিবাসের চট্টমেট্টো জ ১১-০৩৯৪ বাসের চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিপরীতমুখী কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে অটোরিকশাটি মোক্তার আহমদের পরিবারের ওপর এসে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কেরানীহাটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কেরানীহাট বেসরকারি হাসপাতালে দেলোয়ারের শিশুকন্যা ওয়াসিফার মৃত্যু হয় ।
দুর্ঘটনার পর পরই ক্ষুব্ধ জনতা ও দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলা ও ভাঙচুরের কারণে উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হয় এবং মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার বাসযাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পরবর্তী সময়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের অতিরিক্ত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিলে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৯টা ৩০ মিনিটের পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালায়, গাড়িতে ভাঙচুর করে এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত দেলোয়ারের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
একই ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করা হয়।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ ফরিদ উদ্দীন
বিক্ষুব্ধ জনতার বাসে আগুন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলা, মহাসড়কে ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও শিশু কন্যার করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাডে ৭টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৌলভীর দোকানের দক্ষিণ পাশে ‘ডিবিএম’ ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কালিয়াইশ মলেয়াবাদ এলাকার আবদুল ছাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন ও তার শিশুকন্যা ওয়াসিফা। দুর্ঘটনায় নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী রেশমি আকতার (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অন্য সদস্যরা হলেন— একই এলাকার ফরহাদের ছেলে যুবান (৮), ফরহাদ (৩২), এরফান উদ্দীন (৩০), কালিয়াইশ মীরনগর এলাকার বকুল আক্তার (৩৫) ও তার ছেলে।
কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী একই পরিবারের বাবা-মেয়ে নিহত হওয়া ও অন্য সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা:
প্রত্যক্ষদর্শী মোক্তার আহমদ জানান, মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি ডিবিএম ব্রিক ফিল্ডের সামনের ব্রিজে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির মিনিবাসের চট্টমেট্টো জ ১১-০৩৯৪ বাসের চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিপরীতমুখী কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে অটোরিকশাটি মোক্তার আহমদের পরিবারের ওপর এসে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কেরানীহাটের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কেরানীহাট বেসরকারি হাসপাতালে দেলোয়ারের শিশুকন্যা ওয়াসিফার মৃত্যু হয় ।
দুর্ঘটনার পর পরই ক্ষুব্ধ জনতা ও দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে সাতকানিয়া থানা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলা ও ভাঙচুরের কারণে উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হয় এবং মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার বাসযাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পরবর্তী সময়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের অতিরিক্ত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিলে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৯টা ৩০ মিনিটের পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলে কিছু দুর্বৃত্ত হামলা চালায়, গাড়িতে ভাঙচুর করে এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত দেলোয়ারের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
একই ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন