শাহাদাৎ হোসেন সরকারঃ
সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নিয়ম না মেনে সড়কে চলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে যাত্রী, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কিছু অটোরিকশা দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করছে।
কখনো হঠাৎ লেন পরিবর্তন, কখনো সামনে দিয়ে আড়াআড়িভাবে রাস্তা পার হওয়া, আবার কখনো যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
মহাসড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির এসব যান চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালক ট্রাফিক আইন ও সড়কে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই অটোরিকশা নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছেন। কোথাও কোথাও উল্টো পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহন এবং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাও দেখা যায় বলে তাঁদের দাবি। এসব কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি জিএম মিন্টু জানান
মহাসড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও মোটরসাইকেলচালকেরা। একটি দ্রুতগতির বাস বা ট্রাকের সামনে হঠাৎ অটোরিকশা চলে এলে চালকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
তার মতে, জীবিকার তাগিদে অনেক চালক অটোরিকশা চালালেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন মহাসড়কে কী ধরনের যান চলাচলের অনুমতি রয়েছে, কোথায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে কার্যকর তদারকি ও জনসচেতনতা জরুরি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকল্প সড়কে অটোরিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন এবং যাত্রী ওঠানামার নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করা হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; প্রয়োজন পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা। অটোরিকশাচালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ চলাচলের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মহাসড়কে অটোরিকশার ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। প্রতিদিনের যাতায়াত যেন মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো এবং সড়ক আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
এখন প্রশ্ন—মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা কবে দৃশ্যমান হবে?
এবিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি, এবং অবৈধ এসকল যানবাহন অটো অটোইজিবাইক ধরে মামলা দিচ্ছি। এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শাহাদাৎ হোসেন সরকারঃ
সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নিয়ম না মেনে সড়কে চলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে যাত্রী, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কিছু অটোরিকশা দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করছে।
কখনো হঠাৎ লেন পরিবর্তন, কখনো সামনে দিয়ে আড়াআড়িভাবে রাস্তা পার হওয়া, আবার কখনো যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
মহাসড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির এসব যান চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালক ট্রাফিক আইন ও সড়কে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই অটোরিকশা নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছেন। কোথাও কোথাও উল্টো পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহন এবং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাও দেখা যায় বলে তাঁদের দাবি। এসব কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি জিএম মিন্টু জানান
মহাসড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও মোটরসাইকেলচালকেরা। একটি দ্রুতগতির বাস বা ট্রাকের সামনে হঠাৎ অটোরিকশা চলে এলে চালকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
তার মতে, জীবিকার তাগিদে অনেক চালক অটোরিকশা চালালেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন মহাসড়কে কী ধরনের যান চলাচলের অনুমতি রয়েছে, কোথায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে কার্যকর তদারকি ও জনসচেতনতা জরুরি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকল্প সড়কে অটোরিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন এবং যাত্রী ওঠানামার নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করা হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; প্রয়োজন পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা। অটোরিকশাচালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ চলাচলের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মহাসড়কে অটোরিকশার ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। প্রতিদিনের যাতায়াত যেন মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো এবং সড়ক আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
এখন প্রশ্ন—মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা কবে দৃশ্যমান হবে?
এবিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি, এবং অবৈধ এসকল যানবাহন অটো অটোইজিবাইক ধরে মামলা দিচ্ছি। এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন