লগইন
প্রাইম টিভি
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউশনে অভিভাবক সমাবেশ: কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউশনে অভিভাবক সমাবেশ: কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

গাজী আল আমিন, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:


পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউটে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান অভিভাবকরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রাব্বী।

সমাবেশে কয়েকশ অভিভাবক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের শুরুতে অভিভাবকদের নির্ভয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। অভিযোগ উপস্থাপনে যেন কেউ সংকোচ বোধ না করেন, সেজন্য প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সমাবেশস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

আলোচনা পর্বে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে অভিযোগ তুলে ধরেন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বাদল। তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর গত ৯ বছরে অদ্যাবধি কোনো ক্লাসে পাঠদান করেননি। প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অভিভাবক মহিবুল্লাহ রফিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন দাবি করে শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্য অভিভাবক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, কনফারেন্স হল ও শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান খেলার মাঠ সংস্কারের দাবি তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিজ অর্থায়নে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাঠের কিছুটা সংস্কারকাজ করেছেন তিনি।

এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান স্বপন বিদ্যালয়ের ভবন, অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। ছোটখাটো বিষয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আন্দোলন, মিছিল-সমাবেশ বা মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও নৈতিকতা শিক্ষাদানে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, সন্ধ্যার পর বাজারে বা বাইরে ঘোরাঘুরি না করা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থীকে বাইরে পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার মান বজায় রাখতে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত রাখতে বিদ্যালয়সংলগ্ন দোকানগুলোতে সিগারেট বিক্রি না করার জন্য দোকানিদের প্রতি অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর শাসন না করে আদর-সোহাগের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান করতে হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে পারবেন না।

শিক্ষকদের জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহার করে মার্জিত পোশাক পরিধানের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিদিনের ক্লাসের লেসনপ্ল্যান তৈরি ও তা যাচাইয়ের নির্দেশনাও দেন জেলা প্রশাসক।

বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না। কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক পরীক্ষার কমিটিতে থাকতে পারবেন না। সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না বলেও নির্দেশনা দেন তিনি।

শিক্ষা বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর তৈরি পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। আগামী বছরের শুরুতেই দেশব্যাপী তা কার্যকর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সমাবেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউশনে অভিভাবক সমাবেশ: কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ডিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজী আল আমিন, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:


পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউটে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান অভিভাবকরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রাব্বী।

সমাবেশে কয়েকশ অভিভাবক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের শুরুতে অভিভাবকদের নির্ভয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। অভিযোগ উপস্থাপনে যেন কেউ সংকোচ বোধ না করেন, সেজন্য প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সমাবেশস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

আলোচনা পর্বে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে অভিযোগ তুলে ধরেন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বাদল। তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর গত ৯ বছরে অদ্যাবধি কোনো ক্লাসে পাঠদান করেননি। প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অভিভাবক মহিবুল্লাহ রফিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন দাবি করে শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্য অভিভাবক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, কনফারেন্স হল ও শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান খেলার মাঠ সংস্কারের দাবি তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিজ অর্থায়নে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাঠের কিছুটা সংস্কারকাজ করেছেন তিনি।

এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান স্বপন বিদ্যালয়ের ভবন, অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। ছোটখাটো বিষয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আন্দোলন, মিছিল-সমাবেশ বা মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও নৈতিকতা শিক্ষাদানে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, সন্ধ্যার পর বাজারে বা বাইরে ঘোরাঘুরি না করা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থীকে বাইরে পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার মান বজায় রাখতে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত রাখতে বিদ্যালয়সংলগ্ন দোকানগুলোতে সিগারেট বিক্রি না করার জন্য দোকানিদের প্রতি অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর শাসন না করে আদর-সোহাগের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান করতে হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে পারবেন না।

শিক্ষকদের জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহার করে মার্জিত পোশাক পরিধানের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিদিনের ক্লাসের লেসনপ্ল্যান তৈরি ও তা যাচাইয়ের নির্দেশনাও দেন জেলা প্রশাসক।

বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না। কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক পরীক্ষার কমিটিতে থাকতে পারবেন না। সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না বলেও নির্দেশনা দেন তিনি।

শিক্ষা বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর তৈরি পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। আগামী বছরের শুরুতেই দেশব্যাপী তা কার্যকর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সমাবেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি