আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান।
প্রায় দেড় বছর আগে যে বাজার ২৫ কোটি টাকা ইজারার ডাক উঠে, সেই গর্জনিয়া বাজার গত প্রায় দেড় বছর ধরে খাস কালেকশনের নামে কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে নিচ্ছে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা প্রশাসনের হর্তাকর্তারা। ইউএনও আর এসিল্যান্ড কেউ বলতে চায়না কত টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে। আর এত লুকোচুরির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা লুটপাটের বিষয়টা আড়াল করার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে গত ৬ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন-১৯১৩/২০২২ এর রায়ের আলোকে গর্জনিয়া বাজার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তা আমলে নিচ্ছেনা রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ ঐ রায়ে বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে ইতিবাচক নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা আছে।
কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ এটিকে সুষ্পষ্ট আদালত অবমাননা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন হাই কোর্টের মত উচ্চ আদালতের রায় আমলে না নেয়ার পেছনে নিশ্চই অসৎউদ্দেশ্য জড়িত।
গর্জনিয়া বাজারের দোকানদার আব্দুল্লাহ বলেন, এখন আগের মতো টোল আদায় হয়না। আগে গরুর বাজার ছিল এখন বন্ধ। এখন প্রতি বাজারে সর্বোচ্চ ১ লাখের সামান্য বেশী হতে পারে। গরুর বাজার থাকলে ৩ লাখের উপরে উঠতো।
মুদি দোকানি ফজু বলেন, প্রতিবাজারে একেবারে কম করে হলেও ১ লক্ষ টাকা টোল আদায় হলেও বছরে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা আর দেড় বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা তোলা হয়। সরকারের কাছে কত জমা হয় তা আমাদের জানা দরকার।
টং দোকানি মনির সওদাগর বলেন, প্রতি সোমবার বৃহঃবার হাঁছিল তুলে, শুনেছি সন্ধ্যায় তহসিল অফিসের কনক পাল তা হিসাব করে নিয়ে নেয়। কত টাকা প্রতিবাজারে উঠে জানিনা, তবে প্রতি বাজারে আনুমানিক ১ লাখ টাকা হতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতা কবির আহমদ বলেন, গরুর বাজার না থাকায় স্থানীয় গরু বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছে। তারা ঘরের গরু বিক্রি করতে পারছেনা। তাই তিনি গরু বাজার চালু করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। গরুর বাজার না থাকায় ৭০/৮০ হাজার টাকা মত টোল আদায় হতে পারে প্রতি বাজারে। তা তহসিল অফিসের কনক পাল জানবে কত উঠে। সেই প্রতিদিন হিসাব করে টাকা নিয়ে যায়। তবে রাজস্ব কত হয় জানিনা আমরা।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কানন পাল বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা, স্যার (তহসিলদার) থেকে জানতে পারেন। প্রতিদিন কত টাকা আদায় হয় বা কত টাকা রাজস্ব জমা হয় কিছুই বলতে চায়না তিনি।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহসিলদার সামিউল বলেন, তিনি কিছুই বলতে পারবেনা, ইউএনও স্যার থেকে জেনে নিতে বলে কোন কথাই আর বলতে চায়নি।
এবিষয়ে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) স্বরূপ মুহুরী বলেন, হাটবাজারতো আমার নয়, এটি ইউএনও মহোদয় দেখে। গর্জনিয়া বাজার বিষয়ে উনি সব দেখভাল করে, উনার কাছে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তহসিল অফিস আমি দেখি কিন্তু গর্জনিয়ার খাস কালেকশন সরাসরি ইউএনও স্যার তহসিল অফিসের সাথে কাজ করছেন তাই কত উঠে বা কত জমা হয় উনি বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, খাস কালেকশন করে এসিল্যান্ড অফিসারের মাধ্যমে, তিনি বলতে পারবেন এ বিষয়ে। খাস কালেকশনের হিসাব আমার কাছে থাকার কথা নয়। জেলা প্রশাসনের চিঠি বিষয়ে বলেন, আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তবে এটি ছাড়া আরো মামলা আছে। আরো মামলার তথ্য দিতে বললে তিনি আর কোন কথা বলেননি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, খাস কালেকশনের টাকা জমা হয় কিনা জানেনা তহসিলদার, এসিল্যান্ড ও ইউএনও, তাহলে জানে কে? খাস কালেকশনের কোটি কোটি টাকার মধ্যে কত টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে তা নিয়ে ইউএনও'র এত লুকোচুরি কেন? যে বাজার ২৫ কোটি টাকা ডাক হয় সেখনে খাস কালেকশন কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। এত লুটপাটের হিসাব ইউএনওকে দিতেই হবে বলে দাবি করেন তারা।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান।
প্রায় দেড় বছর আগে যে বাজার ২৫ কোটি টাকা ইজারার ডাক উঠে, সেই গর্জনিয়া বাজার গত প্রায় দেড় বছর ধরে খাস কালেকশনের নামে কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে নিচ্ছে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা প্রশাসনের হর্তাকর্তারা। ইউএনও আর এসিল্যান্ড কেউ বলতে চায়না কত টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে। আর এত লুকোচুরির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা লুটপাটের বিষয়টা আড়াল করার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে গত ৬ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন-১৯১৩/২০২২ এর রায়ের আলোকে গর্জনিয়া বাজার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তা আমলে নিচ্ছেনা রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ ঐ রায়ে বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে ইতিবাচক নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা আছে।
কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ এটিকে সুষ্পষ্ট আদালত অবমাননা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন হাই কোর্টের মত উচ্চ আদালতের রায় আমলে না নেয়ার পেছনে নিশ্চই অসৎউদ্দেশ্য জড়িত।
গর্জনিয়া বাজারের দোকানদার আব্দুল্লাহ বলেন, এখন আগের মতো টোল আদায় হয়না। আগে গরুর বাজার ছিল এখন বন্ধ। এখন প্রতি বাজারে সর্বোচ্চ ১ লাখের সামান্য বেশী হতে পারে। গরুর বাজার থাকলে ৩ লাখের উপরে উঠতো।
মুদি দোকানি ফজু বলেন, প্রতিবাজারে একেবারে কম করে হলেও ১ লক্ষ টাকা টোল আদায় হলেও বছরে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা আর দেড় বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা তোলা হয়। সরকারের কাছে কত জমা হয় তা আমাদের জানা দরকার।
টং দোকানি মনির সওদাগর বলেন, প্রতি সোমবার বৃহঃবার হাঁছিল তুলে, শুনেছি সন্ধ্যায় তহসিল অফিসের কনক পাল তা হিসাব করে নিয়ে নেয়। কত টাকা প্রতিবাজারে উঠে জানিনা, তবে প্রতি বাজারে আনুমানিক ১ লাখ টাকা হতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতা কবির আহমদ বলেন, গরুর বাজার না থাকায় স্থানীয় গরু বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছে। তারা ঘরের গরু বিক্রি করতে পারছেনা। তাই তিনি গরু বাজার চালু করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। গরুর বাজার না থাকায় ৭০/৮০ হাজার টাকা মত টোল আদায় হতে পারে প্রতি বাজারে। তা তহসিল অফিসের কনক পাল জানবে কত উঠে। সেই প্রতিদিন হিসাব করে টাকা নিয়ে যায়। তবে রাজস্ব কত হয় জানিনা আমরা।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কানন পাল বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা, স্যার (তহসিলদার) থেকে জানতে পারেন। প্রতিদিন কত টাকা আদায় হয় বা কত টাকা রাজস্ব জমা হয় কিছুই বলতে চায়না তিনি।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহসিলদার সামিউল বলেন, তিনি কিছুই বলতে পারবেনা, ইউএনও স্যার থেকে জেনে নিতে বলে কোন কথাই আর বলতে চায়নি।
এবিষয়ে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) স্বরূপ মুহুরী বলেন, হাটবাজারতো আমার নয়, এটি ইউএনও মহোদয় দেখে। গর্জনিয়া বাজার বিষয়ে উনি সব দেখভাল করে, উনার কাছে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তহসিল অফিস আমি দেখি কিন্তু গর্জনিয়ার খাস কালেকশন সরাসরি ইউএনও স্যার তহসিল অফিসের সাথে কাজ করছেন তাই কত উঠে বা কত জমা হয় উনি বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, খাস কালেকশন করে এসিল্যান্ড অফিসারের মাধ্যমে, তিনি বলতে পারবেন এ বিষয়ে। খাস কালেকশনের হিসাব আমার কাছে থাকার কথা নয়। জেলা প্রশাসনের চিঠি বিষয়ে বলেন, আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তবে এটি ছাড়া আরো মামলা আছে। আরো মামলার তথ্য দিতে বললে তিনি আর কোন কথা বলেননি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, খাস কালেকশনের টাকা জমা হয় কিনা জানেনা তহসিলদার, এসিল্যান্ড ও ইউএনও, তাহলে জানে কে? খাস কালেকশনের কোটি কোটি টাকার মধ্যে কত টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে তা নিয়ে ইউএনও'র এত লুকোচুরি কেন? যে বাজার ২৫ কোটি টাকা ডাক হয় সেখনে খাস কালেকশন কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। এত লুটপাটের হিসাব ইউএনওকে দিতেই হবে বলে দাবি করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন