সবুজ হোসেন: জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বে অবহেলা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র অনিরাপদ ব্যক্তির হাতে রেখে যাওয়া এবং দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। অফিসের সামনে থাকা একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে অফিসের দায়িত্বে রেখে যাওয়া হয়েছে। এ সময় ওই ব্যক্তিকে অফিসের ভেতরে নামজারিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়।
কৌশলে কথা বললে ওই কম্পিউটার দোকানদার জানান, মাঝে মধ্যে অফিসে কেউ না থাকলে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। ভূমি অফিসের সামনে তার কম্পিউটার দোকান থাকায় তিনি বিভিন্ন কাজে ‘সহায়তা’ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজ করে থাকেন।
এ বিষয়ে নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি একটি মামলার শুনানি ও জবানবন্দিতে অংশ নিতে তিনি এবং আরও একজন কর্মচারী বাইরে ছিলেন। আরেকজন অফিস সহায়কও সরকারি কাজে অন্য তহসিলে গিয়েছিলেন। এ কারণে অফিসের দায়িত্ব ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলামকে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে অফিস চলাকালীন পুরো সময় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে মফিজুল ইসলাম দায়িত্ব পালন না করে অন্য একজনকে অফিসে বসিয়ে রেখে চলে গেছেন এমন তথ্য পরে জানতে পেরেছেন বলে জানান তহসিলদার। তিনি বিষয়টিকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কোনোভাবেই অফিসের বাইরের ব্যক্তির কাছে রাখা বা তাদের দিয়ে কাজ করানো ঠিক নয়।
অন্যদিকে, ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলামের ভিডিও বক্তব্যে তিনি জানান, তহসিলদারসহ আরও দুই স্টাফ বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকায় তিনি অন্য একজনকে অফিসে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার আগেই তিনি স্থানীয় কয়েকজন কথিত দালাল আমির উদ্দিন বাবু ও মোস্তাকিম বিল্লাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে ভূমি অফিসে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
দালালদের নিয়ে মফিজুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তহসিলদার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।”
অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে একজন কম্পিউটার দোকানদারের হাতে সরকারি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রেখে যাওয়ার বিষয়টি কতটা নিরাপদ এবং বিধিসম্মত এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নামজারি ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা এবং ভূমি অফিসে কথিত দালালদের প্রভাব নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
সবুজ হোসেন: জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বে অবহেলা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র অনিরাপদ ব্যক্তির হাতে রেখে যাওয়া এবং দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। অফিসের সামনে থাকা একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে অফিসের দায়িত্বে রেখে যাওয়া হয়েছে। এ সময় ওই ব্যক্তিকে অফিসের ভেতরে নামজারিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়।
কৌশলে কথা বললে ওই কম্পিউটার দোকানদার জানান, মাঝে মধ্যে অফিসে কেউ না থাকলে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। ভূমি অফিসের সামনে তার কম্পিউটার দোকান থাকায় তিনি বিভিন্ন কাজে ‘সহায়তা’ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজ করে থাকেন।
এ বিষয়ে নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি একটি মামলার শুনানি ও জবানবন্দিতে অংশ নিতে তিনি এবং আরও একজন কর্মচারী বাইরে ছিলেন। আরেকজন অফিস সহায়কও সরকারি কাজে অন্য তহসিলে গিয়েছিলেন। এ কারণে অফিসের দায়িত্ব ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলামকে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে অফিস চলাকালীন পুরো সময় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে মফিজুল ইসলাম দায়িত্ব পালন না করে অন্য একজনকে অফিসে বসিয়ে রেখে চলে গেছেন এমন তথ্য পরে জানতে পেরেছেন বলে জানান তহসিলদার। তিনি বিষয়টিকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কোনোভাবেই অফিসের বাইরের ব্যক্তির কাছে রাখা বা তাদের দিয়ে কাজ করানো ঠিক নয়।
অন্যদিকে, ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলামের ভিডিও বক্তব্যে তিনি জানান, তহসিলদারসহ আরও দুই স্টাফ বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকায় তিনি অন্য একজনকে অফিসে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার আগেই তিনি স্থানীয় কয়েকজন কথিত দালাল আমির উদ্দিন বাবু ও মোস্তাকিম বিল্লাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে ভূমি অফিসে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
দালালদের নিয়ে মফিজুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তহসিলদার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।”
অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে একজন কম্পিউটার দোকানদারের হাতে সরকারি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রেখে যাওয়ার বিষয়টি কতটা নিরাপদ এবং বিধিসম্মত এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নামজারি ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা এবং ভূমি অফিসে কথিত দালালদের প্রভাব নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন