প্রাইম টিভি

বিশ্ব

ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১,৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে চলমান সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটানো পরিচিত চার ধরনের ইবোলা ভাইরাসের মধ্যে অন্যতম বিরল ধরন। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।ভাইরাস মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ পরীক্ষামূলক একটি টিকার প্রথম ডোজ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে প্রয়োগ করেছে। গবেষক ক্যাটরিনা পোলক এটিকে নতুন টিকা তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইবোলার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট, বকেয়া বেতন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের প্রতিবাদে কয়েকটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ওই প্রাদুর্ভাবে প্রথম এক হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল। বিপরীতে ডিআর কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ১০ সপ্তাহেরও কম সময়ে একই সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে।পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব কঙ্গোর সংঘাত বন্ধ করে আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আলজাজিরা

ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১,৩০০