আমির হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
ইতালির রোমে বহুকাল ধরে লালন করা স্বপ্নের সংসারে নেমে এলো এক মর্মান্তিক ও নৃশংস পরিণতি। ঘাতকের পৈশাচিকতায় প্রবাসে প্রাণ হারিয়েছেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মাত্র পাঁচ বছরের শিশু কন্যা আরওয়া ইসলাম আরিশা। শুক্রবার মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ ইতালি থেকে দেশে পৌঁছায়। পরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় তাঁদের।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ভাই। ইতালি থেকে শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বিমানবন্দর থেকে স্বজনরা লাশ নিয়ে যান নিজ গ্রাম চরকাঁকড়ার বাড়িতে। একনজর দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় এলাকাবাসী। স্বজনদের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের একই পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী, স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, গত ২৬ জুন রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও শিশু কন্যা আরিশা। খবর পেয়ে ইতালীয় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় একই স্থান থেকে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বাবুলের একমাত্র ছেলে অয়নকে। বাবা, মা ও ছোট বোনকে হারিয়ে অয়ন এখন এ পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য।
এই চাঞ্চল্যকর ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। ঘটনাটি ঘটার পরদিন ২৭ জুন ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন অভিযুক্ত উল্লেখ করে তাঁর ছবি প্রকাশ করে।
তবে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আগে থেকেই শঙ্কার ইঙ্গিত ছিল। পারিবারিক সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই বাবুলদের দেশের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’র নামে একটি অজ্ঞাত হুমকি চিঠি ফেলা হয়। চিঠিতে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয় এবং দাবি না মানলে পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম তৎকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই শঙ্কা ও নিরাপত্তার আকুতিতেও শেষ রক্ষা হলো না বাবুলের পরিবারের।
নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস আকুল কণ্ঠে বলেন, “বাবুল দেশে এলে সবার সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মিশতেন। আমরা এই নির্মমতায় বাকরুদ্ধ। দ্রুততম সময়ে এই আন্তর্জাতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উন্মোচন করে জড়িত ঘাতককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
ইতালিতে গড়ে তোলা বাবুলের সেই স্বপ্নের সংসার আজ শুধুই ইতিহাস। পিতা-মাতা ও বোনকে হারিয়ে কিশোর অয়ন এখন নিঃস্ব, একা। আর চরকাঁকড়ার কবরস্থানে পাশাপাশি শুয়ে আছেন এক পরিবারের তিনজন। স্বজনদের অশ্রুসজল চোখ আর বুকফাটা হাহাকারের মাঝে এখন একটিই প্রশ্ন—কেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড, আর কবে শেষ হবে ঘাতকের বিচার?

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
আমির হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
ইতালির রোমে বহুকাল ধরে লালন করা স্বপ্নের সংসারে নেমে এলো এক মর্মান্তিক ও নৃশংস পরিণতি। ঘাতকের পৈশাচিকতায় প্রবাসে প্রাণ হারিয়েছেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মাত্র পাঁচ বছরের শিশু কন্যা আরওয়া ইসলাম আরিশা। শুক্রবার মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ ইতালি থেকে দেশে পৌঁছায়। পরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় তাঁদের।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ভাই। ইতালি থেকে শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বিমানবন্দর থেকে স্বজনরা লাশ নিয়ে যান নিজ গ্রাম চরকাঁকড়ার বাড়িতে। একনজর দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় এলাকাবাসী। স্বজনদের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের একই পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী, স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, গত ২৬ জুন রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও শিশু কন্যা আরিশা। খবর পেয়ে ইতালীয় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় একই স্থান থেকে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বাবুলের একমাত্র ছেলে অয়নকে। বাবা, মা ও ছোট বোনকে হারিয়ে অয়ন এখন এ পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য।
এই চাঞ্চল্যকর ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। ঘটনাটি ঘটার পরদিন ২৭ জুন ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন অভিযুক্ত উল্লেখ করে তাঁর ছবি প্রকাশ করে।
তবে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আগে থেকেই শঙ্কার ইঙ্গিত ছিল। পারিবারিক সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই বাবুলদের দেশের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’র নামে একটি অজ্ঞাত হুমকি চিঠি ফেলা হয়। চিঠিতে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয় এবং দাবি না মানলে পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম তৎকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই শঙ্কা ও নিরাপত্তার আকুতিতেও শেষ রক্ষা হলো না বাবুলের পরিবারের।
নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস আকুল কণ্ঠে বলেন, “বাবুল দেশে এলে সবার সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মিশতেন। আমরা এই নির্মমতায় বাকরুদ্ধ। দ্রুততম সময়ে এই আন্তর্জাতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উন্মোচন করে জড়িত ঘাতককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
ইতালিতে গড়ে তোলা বাবুলের সেই স্বপ্নের সংসার আজ শুধুই ইতিহাস। পিতা-মাতা ও বোনকে হারিয়ে কিশোর অয়ন এখন নিঃস্ব, একা। আর চরকাঁকড়ার কবরস্থানে পাশাপাশি শুয়ে আছেন এক পরিবারের তিনজন। স্বজনদের অশ্রুসজল চোখ আর বুকফাটা হাহাকারের মাঝে এখন একটিই প্রশ্ন—কেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড, আর কবে শেষ হবে ঘাতকের বিচার?

আপনার মতামত লিখুন