শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্যিই অত্যন্ত সৎ ছিলেন এবং এই সততাই ছিল তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বা 'ইউএসপি' (Unique Selling Proposition)—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক আলোচনায় বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনীতি নিয়ে মূল্যায়নে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, "মানুষ কিন্তু ভান এবং আসল—দুটির পার্থক্য খুব ভালো বোঝে। আমার অল্প রাজনৈতিক জীবনে আমি দেখেছি, জিয়াউর রহমান লোক দেখানো সৎ ছিলেন না, তিনি অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ ছিলেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে এমন সততা মানুষ খুব কমই দেখেছে।"
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, "সে সময় রাজনীতিতে সততার এক ধরনের অভাব ছিল। একদিকে যখন দেশে দুর্ভিক্ষ হচ্ছিল, অন্যদিকে তখন স্বর্ণের মুকুটের বিয়ে উৎসব দেখার মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।"
জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমরা প্রায়ই মনে করি গ্রামের সাধারণ কৃষক রাজনীতি বোঝেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন কৃষক একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষকেও রাজনীতি তিনবার বুঝিয়ে দিতে পারেন।"
জিয়াউর রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে দুটি মূল কারণ উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা: ১. ব্যক্তিগত সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা: সাধারণ মানুষের মনে সুদৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, জিয়াউর রহমান নিজের বা তাঁর পরিবার-পরিজনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করবেন না বা সম্পদের পাহাড় গড়বেন না। ২. যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন: দল ও মন্ত্রিসভা গঠনে তিনি বিভিন্ন খাতের সেরা ও যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেছিলেন এবং প্রয়োজনে অনুরোধ করে হলেও তাঁদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা নিয়ে আসা সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সামরিক বাহিনী থেকে উঠে এসেছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার পেছনে শক্তির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। তবে এই সমস্ত সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠেও তিনি জনগণের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিকাশ:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি শুধু জিয়াউর রহমানের ছেলে হওয়ার সুবাদে একদিনেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বসেননি। মাত্র ১৮-২০ বছর বয়সে দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে মাঠে-ময়দানে রাজনীতি শুরু করে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রায় পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রভাব নিশ্চিতভাবেই ছিল, তবে বিষয়টিকে এভাবে দেখার সুযোগ নেই যে তিনি কোনো রাজনীতি না করেই হুট করে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, পরবর্তীতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দায়িত্ব সামলেছেন।"
খালেদা জিয়ার 'আপসহীন' ভাবমূর্তি:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের বিপরীতে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
তিনি বলেন, "খালেদা জিয়া মাঠের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন, যা আমৃত্যু ধরে রেখেছেন। তিনি যা বিশ্বাস করেছেন, তাই বলেছেন; কোনো ভান-ভনিতা করেননি।"
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চাইলে বিভিন্ন সময়ে আপস করে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে গণতন্ত্র ও রাজনীতির স্বার্থে কঠিন পরিস্থিতি ও সংগ্রামের পথকেই বেছে নিয়েছিলেন।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্যিই অত্যন্ত সৎ ছিলেন এবং এই সততাই ছিল তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বা 'ইউএসপি' (Unique Selling Proposition)—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক আলোচনায় বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনীতি নিয়ে মূল্যায়নে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, "মানুষ কিন্তু ভান এবং আসল—দুটির পার্থক্য খুব ভালো বোঝে। আমার অল্প রাজনৈতিক জীবনে আমি দেখেছি, জিয়াউর রহমান লোক দেখানো সৎ ছিলেন না, তিনি অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ ছিলেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে এমন সততা মানুষ খুব কমই দেখেছে।"
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, "সে সময় রাজনীতিতে সততার এক ধরনের অভাব ছিল। একদিকে যখন দেশে দুর্ভিক্ষ হচ্ছিল, অন্যদিকে তখন স্বর্ণের মুকুটের বিয়ে উৎসব দেখার মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।"
জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমরা প্রায়ই মনে করি গ্রামের সাধারণ কৃষক রাজনীতি বোঝেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন কৃষক একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষকেও রাজনীতি তিনবার বুঝিয়ে দিতে পারেন।"
জিয়াউর রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে দুটি মূল কারণ উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা: ১. ব্যক্তিগত সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা: সাধারণ মানুষের মনে সুদৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, জিয়াউর রহমান নিজের বা তাঁর পরিবার-পরিজনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করবেন না বা সম্পদের পাহাড় গড়বেন না। ২. যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন: দল ও মন্ত্রিসভা গঠনে তিনি বিভিন্ন খাতের সেরা ও যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেছিলেন এবং প্রয়োজনে অনুরোধ করে হলেও তাঁদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা নিয়ে আসা সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সামরিক বাহিনী থেকে উঠে এসেছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার পেছনে শক্তির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। তবে এই সমস্ত সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠেও তিনি জনগণের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিকাশ:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি শুধু জিয়াউর রহমানের ছেলে হওয়ার সুবাদে একদিনেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বসেননি। মাত্র ১৮-২০ বছর বয়সে দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে মাঠে-ময়দানে রাজনীতি শুরু করে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রায় পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রভাব নিশ্চিতভাবেই ছিল, তবে বিষয়টিকে এভাবে দেখার সুযোগ নেই যে তিনি কোনো রাজনীতি না করেই হুট করে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, পরবর্তীতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দায়িত্ব সামলেছেন।"
খালেদা জিয়ার 'আপসহীন' ভাবমূর্তি:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের বিপরীতে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
তিনি বলেন, "খালেদা জিয়া মাঠের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন, যা আমৃত্যু ধরে রেখেছেন। তিনি যা বিশ্বাস করেছেন, তাই বলেছেন; কোনো ভান-ভনিতা করেননি।"
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চাইলে বিভিন্ন সময়ে আপস করে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে গণতন্ত্র ও রাজনীতির স্বার্থে কঠিন পরিস্থিতি ও সংগ্রামের পথকেই বেছে নিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন