মোঃরিদুওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো
দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং পণ্যবাহী জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়। বিশেষ করে গমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা, পণ্য পরিবহন ও খালাসে অযথা বিলম্ব এবং বাজারে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো বা খালাসের বিধান রয়েছে। এ বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা নিয়েও অভিযানে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্নোঙরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের চালকদের প্রয়োজনীয় নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অবহিত করা হয়।
অভিযানকালে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় বিভিন্ন টহল ও বোট তল্লাশি করা হয়। এ সময় মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং তাঁদের সচেতন করা হয়। নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করতে মূল নেভিগেশনাল চ্যানেল ও শিপিং চ্যানেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নৌযান ও নাবিকদের সতর্ক করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে রেডিও চ্যানেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে VHF Channel 12 ও Channel 16-এ সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ও দুটি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও দুটি বোট অংশ নেয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ, ‘ভাসমান গুদাম’ তৈরি, পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন কিংবা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মোঃরিদুওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো
দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং পণ্যবাহী জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়। বিশেষ করে গমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা, পণ্য পরিবহন ও খালাসে অযথা বিলম্ব এবং বাজারে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো বা খালাসের বিধান রয়েছে। এ বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা নিয়েও অভিযানে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহির্নোঙরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের চালকদের প্রয়োজনীয় নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অবহিত করা হয়।
অভিযানকালে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় বিভিন্ন টহল ও বোট তল্লাশি করা হয়। এ সময় মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং তাঁদের সচেতন করা হয়। নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করতে মূল নেভিগেশনাল চ্যানেল ও শিপিং চ্যানেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নৌযান ও নাবিকদের সতর্ক করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে রেডিও চ্যানেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে VHF Channel 12 ও Channel 16-এ সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ও দুটি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও দুটি বোট অংশ নেয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ, ‘ভাসমান গুদাম’ তৈরি, পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন কিংবা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন