মোঃ ওয়াশিম, চট্টগ্রাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছিল, যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ না থাকে। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের খোঁজ নিতে এবং শহীদদের মরদেহ শনাক্ত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়েছে। সে সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মেয়র আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই তারা জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন—এটাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সব কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং এই ঐক্যের শক্তিতেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এই আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হলেও রাজপথ ছাড়েননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
অনুষ্ঠানে ১২টি শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদ ফয়সাল শান্তের বাবা, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির। এছাড়া আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন ও সোলাইমান স্বপন স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠান আয়োজনে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
মোঃ ওয়াশিম, চট্টগ্রাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছিল, যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ না থাকে। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের খোঁজ নিতে এবং শহীদদের মরদেহ শনাক্ত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়েছে। সে সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মেয়র আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই তারা জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন—এটাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সব কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং এই ঐক্যের শক্তিতেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এই আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হলেও রাজপথ ছাড়েননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
অনুষ্ঠানে ১২টি শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদ ফয়সাল শান্তের বাবা, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির। এছাড়া আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন ও সোলাইমান স্বপন স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠান আয়োজনে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব

আপনার মতামত লিখুন