প্রাইম টিভি
আপডেট : সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

সুন্দরবনের জলদস্যু  বাহিনীর সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ৬

সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনীর সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ৬

মোংলায় কোস্টগার্ড স্টেশনে হা'মলার ঘটনায় মা'মলা গ্রেফতার- ৬ 

মোংলায় কোস্টগার্ড স্টেশনে হা'মলার ঘটনায় মা'মলা গ্রেফতার- ৬ 

গোলাম কিবরিয়া স্বপন দেওয়ানজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা

গোলাম কিবরিয়া স্বপন দেওয়ানজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা

সুলতানাবাদে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন

সুলতানাবাদে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন

পটুয়াখালীর বাউফলে চলছে দুই দিনব্যাপী লাগসই প্রযুক্তি প্রদর্শনী

পটুয়াখালীর বাউফলে চলছে দুই দিনব্যাপী লাগসই প্রযুক্তি প্রদর্শনী

৯ম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর।

৯ম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর।

নারায়নগঞ্জ  জার্নালিস্ট ইউনিটি'র পক্ষ থেকে শ্রমজীবী মানুষের  মাঝে পানি ও খাবার  স্যালাইন বিতরণ

নারায়নগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি'র পক্ষ থেকে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ

নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।

আজ ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানায় চাদপাই রেঞ্জ ও পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা। এ সময় জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশী পর্যটক-কেউই সুন্দরবনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। বনের মৎস্য সম্পদ ও বন্যপ্রানী প্রজনন নিভিগ্ন করতে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও পর্যটক সহ সকল ধরনের লোকজন এই তিন মাসের জন্য প্রবেশ বন্ধ ঘোষ করে সরকার ২০২০ সাল থেকে। সেই থেকে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবছর থেকে শুধুমাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

বন বিভাগের মতে, জুন, জুলাই ও আগস্ট-এই তিন মাস মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময় বনে মানুষের প্রবেশ সীমিত করা না হলে মাছ, বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, গত ২০২০ সাল থেকে ৩ মাসের জন্য সুন্দরবনে সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার শুধু মাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ার মৎস্য, বন্যপ্রানী বা বনাঞ্চলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে এমন সিদ্দান্ত নেয়া হয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।

বনজীবীদের দাবি, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ প্রয়োজন হলেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ তিন মাস বন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। এ সময় খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জলভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী আছে।

গোটা সুন্দরবনের ওপর প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি ‘জেলেনৌকা’ সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। এসব নৌকায় জেলেরা দলবদ্ধভাবে থাকেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে পাঁচ হাজার ৮০০ জন আর পশ্চিম বিভাগে ছয় হাজার ৩১০ জন তালিকাভুক্ত বনজীবী রয়েছেন। বছরে ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে জানায় বন বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।

আজ ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানায় চাদপাই রেঞ্জ ও পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা। এ সময় জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশী পর্যটক-কেউই সুন্দরবনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। বনের মৎস্য সম্পদ ও বন্যপ্রানী প্রজনন নিভিগ্ন করতে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও পর্যটক সহ সকল ধরনের লোকজন এই তিন মাসের জন্য প্রবেশ বন্ধ ঘোষ করে সরকার ২০২০ সাল থেকে। সেই থেকে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবছর থেকে শুধুমাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

বন বিভাগের মতে, জুন, জুলাই ও আগস্ট-এই তিন মাস মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময় বনে মানুষের প্রবেশ সীমিত করা না হলে মাছ, বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, গত ২০২০ সাল থেকে ৩ মাসের জন্য সুন্দরবনে সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার শুধু মাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ার মৎস্য, বন্যপ্রানী বা বনাঞ্চলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে এমন সিদ্দান্ত নেয়া হয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।

বনজীবীদের দাবি, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ প্রয়োজন হলেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ তিন মাস বন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। এ সময় খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জলভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী আছে।

গোটা সুন্দরবনের ওপর প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি ‘জেলেনৌকা’ সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। এসব নৌকায় জেলেরা দলবদ্ধভাবে থাকেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে পাঁচ হাজার ৮০০ জন আর পশ্চিম বিভাগে ছয় হাজার ৩১০ জন তালিকাভুক্ত বনজীবী রয়েছেন। বছরে ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে জানায় বন বিভাগ।


প্রাইম টিভি

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মামুন আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি