প্রাইম টিভি
আপডেট : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মোংলা বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদের বিক্ষোভ।

মোংলা বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদের বিক্ষোভ।
বিক্ষোভ

মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে কম দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার বর্জন করে বন্দরের মূল ফটকের সামনে দিনব্যাপি তারা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে বন্দর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি জেটি এলাকায় কর্মরত সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদেরও প্রতি বছর দুটি ঈদে নিয়মিতভাবে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট ৯৭৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিককে এই ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী দেয়ার প্রস্তুতি নেয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন। তবে এবারের আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ মাত্র ৭৫০ জন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ করে। অর্থাৎ, পূর্বের তালিকা থেকে ২২৪ জন নিয়মিত শ্রমিককে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের দানা বাঁধে।


এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদ উপহার হিসেবে পণ্য সামগ্রী কম দিয়ে বিতরণ শুরু হলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উপহার বর্জন করে মোংলা বন্দরের মেইন গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা ¯স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি জানান।

 

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান , আমরা সবাই মিলে বন্দরে কাজ করি, তাই সুখ-দুঃখ সবার সমান। ২২৪ জন ভাইকে বাদ দিয়ে আমরা উপহার নিতে পারি না। একই সাথে সঠিক ভারে পণ্য বিতরণ করতে হবে। অন্যথায় কোনো শ্রমিকই এই উপহারের প্যাকেট স্পর্শ করবে না। শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।


অন্যদিকে, মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মাহমুদুন চৌধুরী জানান, বন্দরে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। যেসব শ্রমিকের কাছে বন্দরের বৈধ এবং হালনাগাদ করা 'শ্রমিক কার্ড' নেই, নিয়ম অনুযায়ী তাদের এবার উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত উপহার বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বৈধতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, আমরা লেবির টাকা বন্দর কতৃপক্ষের কাছে আমরা জমা রাখি। সেই টাকা থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জন্য ঈদের খাদ্য সামগ্রী প্রদাণ করে থাকি।গত বছর বন্দর কর্তৃপক্ষ এই খাতের জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ছিল কিন্তু আগত ঈদের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। যে কারনে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

 

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন এবং মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর এসোসিয়েশন মিলে মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বছরে দুইটি ঈদের ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


মোংলা বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদের বিক্ষোভ।

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে কম দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার বর্জন করে বন্দরের মূল ফটকের সামনে দিনব্যাপি তারা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে বন্দর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি জেটি এলাকায় কর্মরত সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদেরও প্রতি বছর দুটি ঈদে নিয়মিতভাবে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট ৯৭৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিককে এই ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী দেয়ার প্রস্তুতি নেয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন। তবে এবারের আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ মাত্র ৭৫০ জন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ করে। অর্থাৎ, পূর্বের তালিকা থেকে ২২৪ জন নিয়মিত শ্রমিককে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের দানা বাঁধে।


এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদ উপহার হিসেবে পণ্য সামগ্রী কম দিয়ে বিতরণ শুরু হলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উপহার বর্জন করে মোংলা বন্দরের মেইন গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা ¯স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি জানান।

 

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান , আমরা সবাই মিলে বন্দরে কাজ করি, তাই সুখ-দুঃখ সবার সমান। ২২৪ জন ভাইকে বাদ দিয়ে আমরা উপহার নিতে পারি না। একই সাথে সঠিক ভারে পণ্য বিতরণ করতে হবে। অন্যথায় কোনো শ্রমিকই এই উপহারের প্যাকেট স্পর্শ করবে না। শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।


অন্যদিকে, মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মাহমুদুন চৌধুরী জানান, বন্দরে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। যেসব শ্রমিকের কাছে বন্দরের বৈধ এবং হালনাগাদ করা 'শ্রমিক কার্ড' নেই, নিয়ম অনুযায়ী তাদের এবার উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত উপহার বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বৈধতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, আমরা লেবির টাকা বন্দর কতৃপক্ষের কাছে আমরা জমা রাখি। সেই টাকা থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জন্য ঈদের খাদ্য সামগ্রী প্রদাণ করে থাকি।গত বছর বন্দর কর্তৃপক্ষ এই খাতের জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ছিল কিন্তু আগত ঈদের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। যে কারনে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

 

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন এবং মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর এসোসিয়েশন মিলে মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বছরে দুইটি ঈদের ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী 


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি