লগইন
প্রাইম টিভি

মো: জাকিরুল ইসলাম

মো: জাকিরুল ইসলাম


ছবি বদলালেই কি বদলায় পরিচয়? দক্ষিণখানে শওকত আলীকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ

 মো: জাকিরুল ইসলামরাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণখানের কাওলা এলাকার শওকত আলী ও তার ছেলে ফয়সাল আলীর বিরুদ্ধে। একসময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করেও একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শওকত আলী ও তার ছেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি ও পরিচয়কে নিজেদের প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও সেই কৌশলের পরিবর্তন হয়নি—শুধু ছবির মানুষ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি তাদের।সম্প্রতি কাওলা এলাকায় সরকারি রাস্তার মাটি ব্যক্তিগত স্থাপনা বা বাড়ির গেটের ভেতরে নেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষার স্বার্থে এক ব্যক্তি রাস্তার মাটি সরিয়ে ব্যক্তিগত কাজে নেওয়ার ব্যাপারে বাধা দেন। এরপর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ এবং আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি রাস্তার মাটি ব্যক্তিগত জায়গায় নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলাই ওই ব্যক্তির ‘অপরাধ’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা ও থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু মামলা দায়ের করেই বিষয়টি শেষ হয়নি; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় তদবির এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্নস্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় শওকত আলী একাধিক প্লটের মালিক হয়েছেন। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘ সময় কোনো দৃশ্যমান চাকরি বা নিয়মিত ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন না। ফলে এত সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে—তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্পদ ও বিভিন্ন বিষয় দেখভালের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার অভিযোগও স্থানীয়দের কেউ কেউ করছেন।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। শওকত আলী ও তার ছেলে ফয়সাল আলীর বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।‘সখী, তুমি কার?’—রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নস্থানীয়দের প্রশ্ন—রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যদি ছবি ও পরিচয়ও বদলে যায়, তাহলে প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান কোনটি? একসময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি, আর এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি—এভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।সরকারি রাস্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি কী, আর একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগগুলোর সত্যতা কী—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ছবি বদলালেই কি বদলায় পরিচয়? দক্ষিণখানে শওকত আলীকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ