প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের চাপ; শেষ পরিণতি আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের চাপ; শেষ পরিণতি আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি:

 নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট ও ভুক্তভোগীর জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই গ্রামের মো. তারেক রহমান (২১)। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে আরও দুইজন জড়িত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগানের গভীরে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পাশে পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করে। একই সময়ে কাউসার আলী তার মা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে এলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মেরিনা বেগমের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়ে না করলে বাবুলের বাড়িতে যাওয়ার কিংবা আত্মহত্যা করার কথা জানান তিনি। পরে বাবুল ১৬ আগস্ট বিয়ের আশ্বাস দেন।

পুলিশ জানায়, ওইদিন মেরিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুল তারেকসহ আরও দুইজনকে তাকে নিয়ে আসার জন্য পাঠান। রাতে মেরিনাকে আগ্রাদ্বিগুন বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে বাবুল পেট্রোল কিনে তাদের সঙ্গে নিয়ে মেরিনাকে একটি আমবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

সেখানে তারেকের কোমর থেকে বেল্ট খুলে মেরিনার গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত নষ্ট করতে বাবুল তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর ভুক্তভোগীর ব্যাগ নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মেরিনার কাছ থেকে নেওয়া টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাবুল হোসেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড এবং আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধারের ক্লুলেস মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে কাজ করছে।”

এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের চাপ; শেষ পরিণতি আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image


নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি:


 নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট ও ভুক্তভোগীর জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।


গ্রেপ্তাররা হলেন ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই গ্রামের মো. তারেক রহমান (২১)। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে আরও দুইজন জড়িত রয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগানের গভীরে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পাশে পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করে। একই সময়ে কাউসার আলী তার মা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে এলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মেরিনা বেগমের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়ে না করলে বাবুলের বাড়িতে যাওয়ার কিংবা আত্মহত্যা করার কথা জানান তিনি। পরে বাবুল ১৬ আগস্ট বিয়ের আশ্বাস দেন।


পুলিশ জানায়, ওইদিন মেরিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুল তারেকসহ আরও দুইজনকে তাকে নিয়ে আসার জন্য পাঠান। রাতে মেরিনাকে আগ্রাদ্বিগুন বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে বাবুল পেট্রোল কিনে তাদের সঙ্গে নিয়ে মেরিনাকে একটি আমবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যান।


সেখানে তারেকের কোমর থেকে বেল্ট খুলে মেরিনার গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত নষ্ট করতে বাবুল তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর ভুক্তভোগীর ব্যাগ নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মেরিনার কাছ থেকে নেওয়া টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।


ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাবুল হোসেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড এবং আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধারের ক্লুলেস মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে কাজ করছে।”


এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি