প্রাইম টিভি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামাল উদ্দিন , কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 

কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় ছেলে মো. সেলিমকে (২২)  যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন (৪০ ) ছেলে মো. জাবেদ  (২০ ) ও পুত্রবধূ মোছা. ময়না আক্তার (১৯)  মো: সেলিম মিয়ার স্ত্রীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মোছা: আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন আবু বাক্কার সিদ্দিক। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

পরদিন সকালে ছেলে সেলিম উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তিনি তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন এবং আর জীবন রাখবেন না। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাঁকে আটক করেন।

পরে নিহতের স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম ও বিছানায় রক্ত দেখতে পান। তাঁকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ  পিতা আব্দুল রাজ্জাক বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মো: সেলিম  , মো: জাবেদ, মোছা: আছিয়া খাতুন ও ময়না আক্তার সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের খালাস দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জামাল উদ্দিন , কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 


কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় ছেলে মো. সেলিমকে (২২)  যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন (৪০ ) ছেলে মো. জাবেদ  (২০ ) ও পুত্রবধূ মোছা. ময়না আক্তার (১৯)  মো: সেলিম মিয়ার স্ত্রীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মোছা: আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়।


এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন আবু বাক্কার সিদ্দিক। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।


পরদিন সকালে ছেলে সেলিম উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তিনি তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন এবং আর জীবন রাখবেন না। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাঁকে আটক করেন।


পরে নিহতের স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম ও বিছানায় রক্ত দেখতে পান। তাঁকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ  পিতা আব্দুল রাজ্জাক বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মো: সেলিম  , মো: জাবেদ, মোছা: আছিয়া খাতুন ও ময়না আক্তার সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।


দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের খালাস দেওয়া হয়।


কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি