প্রাইম টিভি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল


ছাত্রনেতা ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত রাজনৈতিক জীবনের পর এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁকে বিএনপির রাষ্ট্রপতির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে দলকে সুসংগঠিত রাখা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে সম্মানিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের নেতারা।

ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা ও প্রারম্ভিক ক্যারিয়ার:

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা কলেজে শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাবিতে পড়ার সময়ই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

শিক্ষা জীবন শেষে তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে সরকারি দায়িত্বে যোগ দেন।

তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান:

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। এরপর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতিসহ দলের নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি শপথ নেননি।

সংকটকালে কাণ্ডারী ও দীর্ঘ রাজপথের লড়াই:

এক-এগারোর পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে বিএনপি যখন চরম সংকটে পড়ে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

খালেদা জিয়ার কারাবাস ও চিকিৎসা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়ে দেশে থেকে রাজপথের বিরোধী আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী ছিলেন তিনিই। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বহুবার কারাবরণও করতে হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নতুন অধ্যায়:

বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই প্রবীণ রাজনীতিক এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে সুখী পরিবারের প্রধান। পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলামের এই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image


ছাত্রনেতা ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত রাজনৈতিক জীবনের পর এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁকে বিএনপির রাষ্ট্রপতির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে দলকে সুসংগঠিত রাখা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে সম্মানিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলের নেতারা।

ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা ও প্রারম্ভিক ক্যারিয়ার:

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা কলেজে শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাবিতে পড়ার সময়ই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

শিক্ষা জীবন শেষে তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে সরকারি দায়িত্বে যোগ দেন।

তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান:

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। এরপর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতিসহ দলের নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি শপথ নেননি।

সংকটকালে কাণ্ডারী ও দীর্ঘ রাজপথের লড়াই:

এক-এগারোর পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে বিএনপি যখন চরম সংকটে পড়ে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

খালেদা জিয়ার কারাবাস ও চিকিৎসা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়ে দেশে থেকে রাজপথের বিরোধী আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী ছিলেন তিনিই। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বহুবার কারাবরণও করতে হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নতুন অধ্যায়:

বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই প্রবীণ রাজনীতিক এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে সুখী পরিবারের প্রধান। পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলামের এই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি