নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই বাবার। হাটে হাটে গান গেয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই অন্ধ বাবার ভরসা ছিলেন তিন ছেলের একজন মারুফ হোসেন। বাবার চোখ হয়ে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ সেই মারুফও দৃষ্টিহীন। একদিকে জন্মগত অন্ধ বাবা, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলে—দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে মানবেতর জীবন কাটছে পরিবারটির।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার বাবা আব্দুস সোবহান জন্মগতভাবে অন্ধ। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মারুফ সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে কাজের সন্ধানে বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ি এলাকায় একটি ট্রলিতে করে যান তিনি।
সেখানে কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এরেস্টো ফার্মা কোম্পানির একটি গাড়ি পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মারুফ। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে তার অপারেশন করা হয়। এরপর আরও প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
মারুফের পরিবারের অভিযোগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন চিকিৎসা ও অপারেশনের পরও তার চোখের আলো আর ফিরে আসেনি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, একসময় মারুফই ছিলেন বাবার অন্যতম ভরসা। জন্মগতভাবে অন্ধ বাবাকে সহায়তা করতে এবং সংসারের দায়িত্ব নিতে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ঘটনা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন নিজেই অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।
স্থানীয়রা জানান, মারুফের বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবার পাশে দাঁড়াতে ছেলেটি সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই ছেলেটিও এখন চোখে দেখতে পারে না। পরিবারটির দুর্দশা অত্যন্ত করুণ। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করা হলে হয়তো মারুফের জীবনে আবারও আলো ফিরতে পারে।
অন্ধ বাবার চোখ হতে চেয়েছিলেন যে ছেলে, আজ সেই ছেলেই অন্ধকারে জীবন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসা, অপারেশন আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ফেরেনি তার চোখের আলো। এখন সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতার আশাতেই দিন কাটছে মারুফ ও তার পরিবারের।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই বাবার। হাটে হাটে গান গেয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই অন্ধ বাবার ভরসা ছিলেন তিন ছেলের একজন মারুফ হোসেন। বাবার চোখ হয়ে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ সেই মারুফও দৃষ্টিহীন। একদিকে জন্মগত অন্ধ বাবা, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলে—দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে মানবেতর জীবন কাটছে পরিবারটির।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার বাবা আব্দুস সোবহান জন্মগতভাবে অন্ধ। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মারুফ সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে কাজের সন্ধানে বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ি এলাকায় একটি ট্রলিতে করে যান তিনি।
সেখানে কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এরেস্টো ফার্মা কোম্পানির একটি গাড়ি পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মারুফ। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে তার অপারেশন করা হয়। এরপর আরও প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
মারুফের পরিবারের অভিযোগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন চিকিৎসা ও অপারেশনের পরও তার চোখের আলো আর ফিরে আসেনি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, একসময় মারুফই ছিলেন বাবার অন্যতম ভরসা। জন্মগতভাবে অন্ধ বাবাকে সহায়তা করতে এবং সংসারের দায়িত্ব নিতে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ঘটনা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন নিজেই অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।
স্থানীয়রা জানান, মারুফের বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবার পাশে দাঁড়াতে ছেলেটি সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই ছেলেটিও এখন চোখে দেখতে পারে না। পরিবারটির দুর্দশা অত্যন্ত করুণ। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করা হলে হয়তো মারুফের জীবনে আবারও আলো ফিরতে পারে।
অন্ধ বাবার চোখ হতে চেয়েছিলেন যে ছেলে, আজ সেই ছেলেই অন্ধকারে জীবন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসা, অপারেশন আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ফেরেনি তার চোখের আলো। এখন সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতার আশাতেই দিন কাটছে মারুফ ও তার পরিবারের।

আপনার মতামত লিখুন