নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সরকারি জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটে এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য ও ছবি দেখা যাচ্ছে। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ না করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখা যায়, পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জাতীয় তথ্য বাতায়নের কভারফটোতে এখনো শেখ হাসিনার জনসমাবেশের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ছবি এবং তথ্যও বহাল রয়েছে। কোথাও রয়েছে শোক দিবসের ছবি, কোথাও ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল শিক্ষা ভবন’ লেখা, আবার কোথাও রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’সহ পুরোনো বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বর্তমানে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখভাল করেন। ওয়েবসাইটে তথ্য ও ছবি হালনাগাদ রাখার বিষয়টিও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইটে পুরোনো ছবি ও তথ্য বহাল থাকায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কনক চন্দ্র রায় ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে পোরশায় যোগদান করেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য এখনো ওয়েবসাইটে বহাল রাখায় তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে বললে ব্যবস্থা করবো।” শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “শিক্ষা অফিসার ব্যবস্থা নিলে নিক, না নিলে না নেবে।”
পোরশা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জাকারিয়া বলেন, “মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। অনেকে গুরুত্ব দেয় না।”
তবে এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুল কবীর বলেন, “পুরাতন ছবি উঠিয়ে ফেলার জন্য কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি ওয়েবসাইট হালনাগাদের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে কি না। জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে বর্তমান তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ছবি ও তথ্য বহাল থাকার বিষয়টি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি দপ্তরের জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। বিশেষ করে পোরশা উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে থাকা পুরোনো ছবি ও তথ্য সরিয়ে বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, দাপ্তরিক তথ্য এবং সময়োপযোগী কার্যক্রম দ্রুত সংযুক্ত করা উচিত।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সরকারি জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটে এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য ও ছবি দেখা যাচ্ছে। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ না করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখা যায়, পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জাতীয় তথ্য বাতায়নের কভারফটোতে এখনো শেখ হাসিনার জনসমাবেশের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ছবি এবং তথ্যও বহাল রয়েছে। কোথাও রয়েছে শোক দিবসের ছবি, কোথাও ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল শিক্ষা ভবন’ লেখা, আবার কোথাও রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’সহ পুরোনো বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বর্তমানে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখভাল করেন। ওয়েবসাইটে তথ্য ও ছবি হালনাগাদ রাখার বিষয়টিও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইটে পুরোনো ছবি ও তথ্য বহাল থাকায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কনক চন্দ্র রায় ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে পোরশায় যোগদান করেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য এখনো ওয়েবসাইটে বহাল রাখায় তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কনক চন্দ্র রায় বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে বললে ব্যবস্থা করবো।” শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “শিক্ষা অফিসার ব্যবস্থা নিলে নিক, না নিলে না নেবে।”
পোরশা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জাকারিয়া বলেন, “মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। অনেকে গুরুত্ব দেয় না।”
তবে এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুল কবীর বলেন, “পুরাতন ছবি উঠিয়ে ফেলার জন্য কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি ওয়েবসাইট হালনাগাদের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে কি না। জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে বর্তমান তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ছবি ও তথ্য বহাল থাকার বিষয়টি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি দপ্তরের জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। বিশেষ করে পোরশা উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে থাকা পুরোনো ছবি ও তথ্য সরিয়ে বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, দাপ্তরিক তথ্য এবং সময়োপযোগী কার্যক্রম দ্রুত সংযুক্ত করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন