প্রাইম টিভি
প্রকাশ : রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

"আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম": মমতার গাড়িতে হামলা, ঘিরে ধরে কাদা ও জুতো নিক্ষেপ

"আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম": মমতার গাড়িতে হামলা, ঘিরে ধরে কাদা ও জুতো নিক্ষেপ


পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, কিছু দুর্বৃত্ত ইট-পাথর ও বোতল দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারত।

রোববার (৯ আগস্ট) হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এক তৃণমূল নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরজু কেওট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিজপুর থানার পুলিশ। কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ, হাজতখানায় তার স্বামীকে নির্মম নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বিরজুর পরিবারের সমবেদনা জানাতে সকালে রওনা হন মমতা।

হালিশহরে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা মমতা ব্যানার্জির গাড়ি ঘিরে ধরে ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে গাড়িতে কাদা লেপে দেওয়ার পাশাপাশি জুতো ও পানির বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের বলেন, "পুলিশের সামনেই বাইরে থেকে আসা সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত, আমি মারা যেতাম। রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনোই এমন হামলার মুখোমুখি হইনি। পুলিশ আমাদের রক্ষায় কিছুই করেনি, তারা কেবল বিজেপিকে সুরক্ষা দিতে ব্যস্ত।"

মমতার সফরসঙ্গী সংসদ সদস্য (এমপি) কল্যাণ ব্যানার্জি ও দোলা সেনও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে এসব পরিচালনা করছেন।"

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, "এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ একজনকে তুলে নিয়ে গেল এবং সে আর জীবিত ফিরল না—এটি সরাসরি আইনের শাসনের ওপর আঘাত।"

অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না, পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।"

উল্লেখ্য, রাজ্য নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


"আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম": মমতার গাড়িতে হামলা, ঘিরে ধরে কাদা ও জুতো নিক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image


পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, কিছু দুর্বৃত্ত ইট-পাথর ও বোতল দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারত।

রোববার (৯ আগস্ট) হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এক তৃণমূল নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরজু কেওট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিজপুর থানার পুলিশ। কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ, হাজতখানায় তার স্বামীকে নির্মম নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বিরজুর পরিবারের সমবেদনা জানাতে সকালে রওনা হন মমতা।

হালিশহরে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা মমতা ব্যানার্জির গাড়ি ঘিরে ধরে ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে গাড়িতে কাদা লেপে দেওয়ার পাশাপাশি জুতো ও পানির বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের বলেন, "পুলিশের সামনেই বাইরে থেকে আসা সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত, আমি মারা যেতাম। রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনোই এমন হামলার মুখোমুখি হইনি। পুলিশ আমাদের রক্ষায় কিছুই করেনি, তারা কেবল বিজেপিকে সুরক্ষা দিতে ব্যস্ত।"

মমতার সফরসঙ্গী সংসদ সদস্য (এমপি) কল্যাণ ব্যানার্জি ও দোলা সেনও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে এসব পরিচালনা করছেন।"

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, "এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ একজনকে তুলে নিয়ে গেল এবং সে আর জীবিত ফিরল না—এটি সরাসরি আইনের শাসনের ওপর আঘাত।"

অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না, পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।"

উল্লেখ্য, রাজ্য নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি